মালয়েশিয়া সফরের আগে নিয়োগ সিন্ডিকেট বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অভিবাসী কল্যাণ নেটওয়ার্কের আহ্বান
বর্তমান ও সাবেক অভিবাসী কর্মীদের জোট 'মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক' (এমডব্লিউএন), যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন ব্যবস্থার নিপীড়নের শিকার, অভিবাসন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণকারী নিয়োগ সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মালয়েশিয়া সফরের প্রাক্কালে, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোরে ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানিয়ে এমডব্লিউএন একটি খোলা চিঠি জমা দিয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনের পর সংগঠনের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই চিঠি হস্তান্তর করেন। মালয়েশিয়া ফেরত কর্মী এবং এই নেটওয়ার্কের সদস্য নিরঞ্জন টিবিএস-এর কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে এমডব্লিউএন অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে হওয়া ব্যাপক দুর্নীতি, ঋণের জাল, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেছে।
সংগঠনটি বলেছে, 'বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন করিডোর এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রম অভিবাসন পথ হওয়া সত্ত্বেও, এটি একটি আইনহীন সিন্ডিকেট ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে যা শোষণ, একচেটিয়া আধিপত্য এবং দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।'
এমডব্লিউএন-এর তথ্যমতে, মালয়েশিয়া ১৪টি উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করলেও বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেটিকে হাতেগোনা কয়েকটি জনশক্তি রপ্তানি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সীমাবদ্ধ নিয়োগ মডেলের শিকার হতে হচ্ছে।
জোটটি অভিযোগ করেছে যে, সিন্ডিকেট-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা কৃত্রিমভাবে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছে এবং বছরের পর বছর হাজার হাজার কর্মীকে ঋণের বোঝা ও বাধ্যতামূলক শ্রমের জালে আটকে ফেলেছে।
এমডব্লিউএন যুক্তি দিয়েছে যে, নিয়োগ সিন্ডিকেটগুলোই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বারবার অভিবাসন সংকট, নিয়োগ বন্ধ হওয়া এবং সুশাসনের ব্যর্থতার মূল কারণ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, 'সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নির্মূল না করলে এই অভিবাসন করিডোরে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। সিন্ডিকেট ব্যবস্থাই দুর্নীতি, কর্মী শোষণ, অত্যধিক অভিবাসন ব্যয় এবং বারবার সুশাসনের
ব্যর্থতার প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে রয়েছে।'
সংগঠনটি জানায়, সরকারিভাবে নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় প্রায় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে অনেক কর্মীকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। অভিবাসনের খরচ মেটাতে অনেক কর্মী চড়া সুদে ঋণ নেন বা পরিবারের সম্পদ বন্ধক রাখেন, যা তাদের শোষণের মুখে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ঠেলে দেয়।
এমডব্লিউএন-এর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিদ্যমান বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক পরিবর্তন করে একটি বাধ্যতামূলক দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর করা, নিয়োগ সিন্ডিকেট বাতিল করা, মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণ, বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, পাসপোর্ট জব্দ ও বাধ্যতামূলক শ্রম বন্ধ করা, কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সেবার মান বাড়ানো এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি স্বচ্ছ অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
