Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Wednesday
June 17, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
WEDNESDAY, JUNE 17, 2026
‘ময়লার ভাগাড়ে’ বৃদ্ধার মৃত্যু কী জানিয়ে গেল আমাদের? 

মতামত

শাহানা হুদা রঞ্জনা
04 June, 2026, 12:40 pm
Last modified: 04 June, 2026, 12:42 pm

Related News

  • মায়ের মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগ: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
  • মিরপুরের কালশি বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে
  • রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ, দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু
  • রাজধানীর শাহ আলী মাজারে হামলা: ৩ আসামি দুই দিনের রিমান্ডে
  • মিরপুরে প্রাথমিকের নিয়োগপ্রত্যাশীদের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

‘ময়লার ভাগাড়ে’ বৃদ্ধার মৃত্যু কী জানিয়ে গেল আমাদের? 

এই মা আজকে যে পরিত্যাজ্য হয়েছেন তার গর্ভজাত সন্তানদের কাছে, একদিন এই ছেলেমেয়ের ভালো রেজাল্ট, ভালো চাকরি, পদ-পদবী, বিয়ে, নাতি-নাতনির জন্ম তাকে গর্বিত করেছে। সন্তানের সাফল্যে মা-বাবার চাইতে বেশি খুশি আর কে হতে পারে? তাদের যেকোনো অর্জনে সবচাইতে উজ্জ্বল হতে দেখি মা-বাবার মুখখানি।
শাহানা হুদা রঞ্জনা
04 June, 2026, 12:40 pm
Last modified: 04 June, 2026, 12:42 pm
শাহানা হুদা রঞ্জনা। স্কেচ: টিবিএস

সুপ্রতিষ্ঠিত সন্তান, অথচ তাদের মা ৭৫ বছর বয়স্ক নূরজাহান বেগমের অর্ধগলিত ও পোকা ধরা মরদেহ পুলিশকে উদ্ধার করতে হলো কেন? কেন তার সন্তানরা মায়ের মৃত্যু কেউ টের পেলেন না এবং বৃদ্ধার ঘরের অবস্থা ময়লার ভাগাড়ের মতো হলো কীভাবে?  প্রতিটি প্রশ্নই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, শুধু আমার একার নয়, সবার।  

মায়ের মৃত্যু কেউ টের পাননি, সেটাও যদি মেনে নিই–কিন্তু যে পরিবেশে মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল, তা মেনে নেয়া খুব কষ্টকর। কীভাবে একটি বসত গৃহ এতটা  অপরিচ্ছন্ন ও এলোমেলো হতে পারে? এরমানে দাঁড়াচ্ছে  বেশ অনেকদিন ধরেই উনি  সন্তানদের কাছে অপাঙতেয় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু কেন তিনি এতটা অচ্ছুৎ হয়ে  পড়লেন?  

সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের লেখালেখি হচ্ছে। কেউ ধারণা করছেন উনি  কারো সাথে মিশতে চাইতেন না, কেউ ভাবছেন ছেলেমেয়েদের কারো সাথেই উনি  সম্পর্ক রাখেন নাই বা সম্পর্ক ভালো ছিল না। বৃদ্ধা হয়তো গৃহ সহযোগী রাখতেন না, কারো সাথে মিশতেন না এবং সন্তানদের বিশ্বাস করতেন না, অবশ্য এসবই অনুমান। ইতোমধ্যে ওনার সন্তানরা তাদের মতামত জানিয়েছেন, যা অনেকের কাছেই  অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। 

যার দেহে পোকা ধরেছে, অভিযোগ জানানোর জন্য উনি আর বেঁচে নেই। মায়ের প্রতি অযত্ন, অবহেলার জন্য দেশের আইন অনুযায়ী তারা কোনো শাস্তি পাবেন কিনা বলতে পারছি না। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে যে নির্মম সত্য ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র বেরিয়ে এলো, তা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। 

এই মা আজকে যে পরিত্যাজ্য হয়েছেন তার গর্ভজাত সন্তানদের কাছে, একদিন এই ছেলেমেয়ের ভালো রেজাল্ট, ভালো চাকরি, পদ-পদবী, বিয়ে, নাতি-নাতনির জন্ম তাকে গর্বিত করেছে। সন্তানের সাফল্যে মা-বাবার চাইতে বেশি খুশি আর কে হতে পারে? তাদের যেকোনো অর্জনে সবচাইতে উজ্জ্বল হতে দেখি মা-বাবার মুখখানি।

রোগে, শোকে, দু:খে, অসুখে, পরীক্ষা চলাকালে মা-বাবাই রাত জেগে পাশে থাকেন, সেবা করেন। হয়তো একদিন এই মা ছেলেদের বুকে আঁকড়ে রাতের পর রাত জেগে  কাটিয়েছেন, মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আজ তিনি মরে পড়ে রইলেন একা, নিঃসঙ্গ, অন্ধকারে। 

তিনি এতটাই একা ছিলেন যে তিনি কখন মারা গেলেন তা কেউ টের পাননি। একজন মানুষ জীবনের শেষ মুহূর্তে কতটা নিঃসঙ্গ হলে এমন পরিণতি তার  জন্য অপেক্ষা করতে পারে? 

আমরা বাঙালিরা সাধারণত সবাইকে নিয়ে, সবার সাথে থাকতে ভালবাসি। ভয় পাই  নি:সঙ্গতা, এরচাইতেও বেশি ভয় পাই উপেক্ষা ও অবহেলাকে। আর সেই উপেক্ষা যদি কাছের মানুষ ও প্রাণপ্রিয় সন্তানের কাছ থেকে আসে, তাহলে দু:খ আরো বহুগুণ বেশি  হয়। 

মানুষের বয়স যতো বাড়ে, ততোই মানুষ হয়ে পড়েন পরনির্ভরশীল। আয় থাকেনা, মাথার ওপর আশ্রয়ে ঘুন ধরতে শুরু করে, অসুখ-বিসুখ ভর করে, প্রিয়জনরা দূরে সরে যেতে থাকে এবং একসময় চিরসঙ্গী মানুষটিও হারিয়ে যায়। 

তখন মানুষের একমাত্র ভরসা হতে পারে তার পরিবার। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই তা হয় না। বিকল্প হিসেবে আসে বৃদ্ধাশ্রমের নাম। নিজের বাড়িতে থেকে সেবা কিনতে পারা যায়, কিন্তু তাতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। যারা ভাগ্যবান তারা সন্তানের আশ্রয়ে থাকার ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পান। যারা অর্থ-বিত্তহীন, যাদের সন্তান নেই, তাদের অবস্থা হয় সবচেয়ে করুণ। আর যাদের ভাগ্য নূরজাহান বেগমের মতো, তাদের মৃত্যু হয় এইভাবে, ময়লার ভাগাড়ে। 

সামাজিক গবেষক মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার সাহেবের ফেসবুক স্ট্যাটাসে একটি লেখা দেখে খুব পছন্দ হলো। তিনি অবশ্য অন্য একটি প্রসঙ্গে লিখেছেন, কিন্তু আমি মনে করছি এটি প্রণিধানযোগ্য। উনি লিখেছেন, 'ইংরাজিতে একটা ফ্রেইজ ব্যবহার করা হয় Badly educated। এর অর্থ কেবল শিক্ষার অভাব নয়, এর অর্থ মূলত "কুশিক্ষা"। অর্থাৎ যে শিক্ষা একজন মানুষকে কেবল পড়তে আর লিখতে শেখায়, চিন্তা করতে শেখায় না। যে শিক্ষা মানুষকে বলতে শেখায়, কিন্তু ভব্যতা বা Etiquette শেখায় না। যে শিক্ষা মানুষকে টাকা আয় করতে শেখায়, কিন্তু সৃজনশীল জীবনযাপন শেখায় না।'

আমার মনে হয়েছে মৃত মায়ের সেই চার সন্তান হচ্ছেন ইংরেজি ফ্রেইজ Badly educated-এর উদাহরণ। গোলাম সারোয়ার সাহেবের কথা ধরেই বলতে চাইছি, আমাদের বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ এরকম Badly educated আছেন, যাদের শিক্ষাগত ডিগ্রি আছে, লম্বা পেশাদার অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই শিক্ষা এদেরকে চিন্তা করতে শেখায়নি, ভব্যতা শেখায়নি, সৃজনশীল জীবনবোধ শেখায়নি। এ ধরনের সন্তানরা শিক্ষা, টাকা, ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দুর্গন্ধযুক্ত ভাগাড় থেকে বের হতে পারে না।  

শহর-গ্রাম, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র সব পরিবারেই এমন সন্তান আছে। বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় খবর দেখেছি, আশেপাশের পরিচিতদের মধ্যে দেখেছি বাবা-মাকে অবজ্ঞা ও অসম্মান করার ঘটনা। তবে মিরপুরের ঘটনা সবকালের, সব ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। একদিকে, ময়লার ভাগাড়ে মায়ের করুণ মৃত্যু, অন্যদিকে তার উচ্চপদস্থ চাকুরিজীবী চার সন্তান। 

আমরা প্রায়ই ভাবি, বৃদ্ধ মা-বাবাকে পরিত্যাগ করা গরিব মানুষের সমস্যা। গরিব মানুষ  টাকার অভাবে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বপালন করতে পারেন না। কিন্তু এই ঘটনার এই  বৃদ্ধা এমন একটি পরিবারের সদস্য, যার সঙ্গে সমাজের অভিজাত শ্রেণির সম্পর্ক রয়েছে। তারা কেন এই আচরণ করলেন, এটা জানা খুব জরুরি।  

আজকাল ইয়াং জেনারেশনকে বলতে শুনি, মা-বাবাদের কোনো 'ফিউচার প্ল্যান' থাকে না  কেন? তারা বলেই ফেলে, বাবা-মাকে জানতে হবে শেষ বয়সে এসে নিজেদের চলার জন্য টাকা লাগবে। তাদের চালানোর মতো টাকা সন্তানরা কোথায় পাবে? কী ভীষণ 'স্বার্থপর' মানসিকতা! 

এদেশের 'বোকা মা-বাবারা' তাদের জীবন বাজি রেখে সন্তানকে লালন-পালন করেন। যার যতোটুকু আছে, তার প্রায় সবটা দিয়েই সন্তানের চাহিদা পূরণ করেন।  

দরিদ্র মা-বাবাও চান সন্তানের মুখে প্রতিদিন খাবার তুলে দিতে। তারা যা আয় করেন, তার প্রায় পুরোটাই ব্যয় করেন সংসার চালতে, সন্তানের উচ্চ শিক্ষায় এবং নিজেদের কিছু প্রয়োজন মেটাতে। এ কথা আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সংসার চালাতে গিয়ে আমরা বাবা-মায়ের জন্য যা ব্যয় করি, এরচাইতে অধিক ব্যয় করি সন্তানের পেছনে। 

এই সন্তানরা যখন বড় হয়, নিজেদের সংসার হয়, তখন কেউ কেউ জানতে চায় মা বাবার 'ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা' নেই কেন। আবার অনেক সন্তান নানান সীমাবদ্ধতার মাঝেও  পিতামাতাকে নিয়েই থাকেন। বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেওয়া খুব বড় কাজ। আশঙ্কার কথা হলো, এই বড় কাজটা করতে যে সময় ও মানসিকতা লাগে তা সন্তানদের মধ্যে ক্রমেই  কমে আসছে।  

সন্তানের পরিবারে না থেকে বা নিজের ঘরে উপেক্ষিত হয়ে একা থাকার চাইতে বৃদ্ধাশ্রমে  থাকাই ভালো বলে আমরা এখন অনেকেই ভাবছি। এদেশে বৃদ্ধাশ্রমের কনসেপ্ট খুব  বেশিদিনের নয়। অধিকাংশ বৃদ্ধাশ্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে এবং কম সুযোগ-সুবিধা  নিয়ে। দরিদ্র বা মধ্যবিত্তদের জন্য তেমন কোনো বৃদ্ধাশ্রম নেই। আবার এমনও দেখা গেছে বৃদ্ধাশ্রমে মা বা বাবাকে রেখে যাওয়ার পর সন্তানরা আর নিয়মিত খোঁজ নেন না।  

অথচ বৃদ্ধাশ্রমে যারা আছেন, সবাই যে সহায়-সম্বলহীন তা কিন্তু নয়। কেউ নিজের  সম্পত্তি সন্তানদের দিয়েছেন, কেউ জমি বিক্রি করে সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়েছেন বা  ছেলেমেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, কেউবা সন্তানের পড়াশোনার খরচ যুগিয়েছেন। এরা  সবাই ভেবেছিলেন সন্তান স্বাবলম্বী হলে বা সন্তানের পরিবার হলে সেখানে তাদের ঠাঁই  হবে। তারা ভালবাসায় জড়াজড়ি করে থেকে যাবেন।  

আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, সন্তানই তাদের বার্ধক্যের বীমা।  সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিহিত আছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কিছু বলছে। আধুনিক পৃথিবীতে বাবা-মায়ের উচিত নিজেদের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করা।  

আমার বাবা বলতেন, স্নেহ নিম্নগামী। কিন্তু এখন সময়টা এমন হয়েছে যে নিজেদের  কপর্দকশূন্য করে স্নেহ দেখাতে গিয়ে, বাবা-মা নিজেরাই নিরাপত্তাহীন ও স্নেহ ভালবাসাহীন এক জীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন। থাকতে বাধ্য হচ্ছেন একা একা বা বৃদ্ধাশ্রমে।  

৬/৭ বছর আগে একটা বৃদ্ধাশ্রমে কাজে গিয়ে মনে হলো যেন একটা বিবর্ণ বস্তিগৃহ। টিমটিমে আলো, বাইরে কাঁচা উঠান, সেখানে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা। এখানে যারা বসবাস করছেন, তারা অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। কেউ পেশায় ছিলেন শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ সরকারি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং কেউ কৃষক। মায়েদের মধ্যেও আছেন সাবেক চাকুরিজীবী এবং গৃহিনী। 

এরা সবাই কোলেপিঠে করে সন্তানদের বড় করেছেন। এদের কারো কারো সন্তান প্রতিষ্ঠিত। সন্তানদের কেউ কেউ  বাবা-মাকে টাকা-পয়সা দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে রেখেছেন, অনেকেই অনিয়মিত খরচ দেন, আবার তাদের রেখে পালিয়েও গেছেন কেউ কেউ। দেখে মনটা খুব খারাপ হলো, সঙ্গে আতঙ্কও হলো। ভাবলাম, আমাদের মতো অনেকেরই ভবিষ্যৎ হয়তো এমনই কোথাও  লেখা আছে, হয়তো আরো একটু ভালো কোনো বৃদ্ধাশ্রমে।  

ধনী পরিবারের জন্য কিছু ভালো বৃদ্ধাশ্রম আছে। সেখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি। সন্তান যে দায়িত্বপালন করতে পারে না, টাকা দিয়ে এখানে তা পাওয়া যায়, শুধু সন্তানের স্নেহমাখা হাতটি ছাড়া। আমরা অদ্ভুত এক স্বার্থপরতায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি। যতদিন  বাবা-মা কর্মক্ষম থাকেন, তাদের কাছে অর্থকড়ি, সহায়-সম্পত্তি থাকে, যতদিন তারা আমাদের কিছু দিতে পারেন, ততদিনই যেন ভালবাসা চলমান থাকে। খুব অপ্রিয় হলেও সত্যি কথা।

আমরা যেভাবে দেখছি বা ভাবছি, বৃদ্ধাশ্রম বা ওল্ডহোম সেরকম খারাপ কোনো কনসেপ্ট নয়। উন্নত বিশ্বে এটা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র। বয়স হয়ে গেলে সেখানে বৃদ্ধাশ্রমে বা অ্যাসিস্টেড লিভিং ফ্যাসিলিটিতে যাওয়া খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। বিশেষ করে কেউ যখন অসহায় হন, কাজ করার ক্ষমতা হারান, সন্তান দূরে থাকে। সেখানে রাষ্ট্র তাদের  দেখভালের দায়িত্ব নেয়, নেয় চ্যারিটি হোম ও কর্পোরেটগুলো তাদের সিএসআর ফান্ড থেকে। সেইসব দেশে বৃদ্ধাশ্রমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে খুব প্রফেশনালি, সব ধরনের আধুনিক সুবিধাদিসহ। বয়স বেড়ে গেলে মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধাশ্রমে নিজের ইচ্ছাতেই যান, অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল হতে চান না।

সেইসব দেশে সন্তান ও পিতামাতার সম্পর্কটা একটা ইন্ডিভিজুয়ালিস্টিক সামাজিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। সাধারণত সন্তানের দায়-দায়িত্ব ১৮ বছর পর্যন্ত বাবা-মা বহন করেন। এমনকি নিজেকে শূন্য করে সব সম্পত্তি ভাগ করে দেয়ারও  রেওয়াজ নেই। রাষ্ট্র পেনশন দেয়, চিকিৎসা সুবিধা দেয়, থাকার মতো জায়গা দেয়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেখাশোনা করার জন্য সহযোগী দেয়। ফলে সেখানকার প্রবীণরা কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়েও বাঁচতে পারেন।

যেহেতু সেইসব দেশে একটা নির্দিষ্ট বয়সে সন্তানরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নিজেই নিজের প্রতি দায়িত্বপালন করতে শেখে, তাই পিতামাতার প্রতি তাদের বন্ধন ও  দায়িত্ববোধ এতটা স্ট্রং থাকে না। নির্দিষ্ট দিনগুলোতে ছেলেমেয়ে আসে মা-বাবার সাথে দেখা করতে। সঙ্গে করে নিয়ে আসে পছন্দের খাবার বা অন্য কোনো উপহার। মাঝেমধ্যে এখান থেকে বেড়াতে নিয়ে যায়, পরিবারের কাছে নিয়ে যায়। এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন সেখানকার বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। এজন্য তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও অপাঙতেয় মনে করেন না। 

আমাদের সমাজটা ঠিক এমনটা নয়। আমরা মূলত যৌথ পরিবারভিত্তিক ছিলাম।  পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিল পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, ভালোবাসা, ঐক্য ও  অংশীদারিত্বের মানসিকতা। এখন জীবনযাপনের ধরন বদলেছে। আমরা একক পরিবারের দিকে ঝুঁকেছি ঠিকই, কিন্তু এদেশে তৈরি হয়নি পরিবারের বয়স্ক মানুষদের দেখভালের জন্য তেমন কোনো আশ্রয়কেন্দ্র। এক্ষেত্রে নেই রাষ্ট্রের সহায়তা, নেই সামাজিক কোনো উদ্যোগ।

অথচ এখন সময়ের দাবি বৃদ্ধাশ্রম। এই ধারণাটিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মনে করে সরকার, এনজিও, হাসপাতাল ও কর্পোরেটগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে, যেন এগুলোর  মান ভাল করা যায়। আর্থিক অবস্থাভেদে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বৃদ্ধাশ্রম হতে পারে। দিনে দিনে এর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। যতোই অসহায়বোধ করি না কেন, মন খারাপ হোক না কেন, কিন্তু আমরা কেউ চাইনা নূরজাহান বেগমের মতো জীবন ও মৃত্যু।


লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক 


বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।

Related Topics

টপ নিউজ

বৃদ্ধার মৃত্যু / নিঃসঙ্গতা / নূরজাহান বেগম / মিরপুর / মায়ের মৃত্যু

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • মীর নাদিয়া নিভিন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রথম নারী চেয়ারম্যান হলেন মীর নাদিয়া নিভিন
  • ছবি: রয়টার্স
    এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ‘সেকেলে’ হয়ে যাওয়া কলা ও মানবিকের ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন
  • ছবি: টিবিএস
    অব্যবস্থাপনার দায়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে অব্যাহতি, তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • ছবি: রয়টার্স
    ফিলিপাইনের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যেভাবে সমুদ্রের তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে, উপকূলরেখা বেড়ে গেছে কয়েকশো মিটার
  • প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    বিশ্ববাজারে কমলেও যে কারণে শীঘ্রই দেশে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই 
  • দক্ষিণ লেবাননের টায়ার বন্দরে একটি নৌকা মেরামত করছেন জেলেরা। ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির ওপর থাকা বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ছবি: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
    নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ: বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে ইরান যুদ্ধ

Related News

  • মায়ের মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগ: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
  • মিরপুরের কালশি বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে
  • রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ, দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু
  • রাজধানীর শাহ আলী মাজারে হামলা: ৩ আসামি দুই দিনের রিমান্ডে
  • মিরপুরে প্রাথমিকের নিয়োগপ্রত্যাশীদের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

Most Read

1
মীর নাদিয়া নিভিন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রথম নারী চেয়ারম্যান হলেন মীর নাদিয়া নিভিন

2
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ‘সেকেলে’ হয়ে যাওয়া কলা ও মানবিকের ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

3
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

অব্যবস্থাপনার দায়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে অব্যাহতি, তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

4
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যেভাবে সমুদ্রের তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে, উপকূলরেখা বেড়ে গেছে কয়েকশো মিটার

5
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে কমলেও যে কারণে শীঘ্রই দেশে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই 

6
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার বন্দরে একটি নৌকা মেরামত করছেন জেলেরা। ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির ওপর থাকা বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ছবি: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
আন্তর্জাতিক

নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ: বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে ইরান যুদ্ধ

EMAIL US
[email protected]
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - [email protected]

For advertisement- [email protected]

 
Edit with