এবারের বাজেট জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সক্ষম

এম এ খালেক | Jul 18, 2025 11:47 am
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ - সংগৃহীত

 

ব্যাপক পরিবর্তন-পরিমার্জন ছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় গত ২ জুন টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই বাজেট জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ৫৪তম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট। ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছরে প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছিল, যাতে আয় এবং ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল যথাক্রমে ২৮৫ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা ও ২১৮ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা।


বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটা প্রথম জাতীয় বাজেট। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিপর্যস্ত প্রায় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করে সঠিক পথে পরিচালনায় নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। তিন বছর ধরে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিম্ন প্রবৃদ্ধির কালে জাতীয় বাজেট কেমন হবে তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। জনতুষ্টিমূলক বাজেটের পরিবর্তে কিভাবে জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়ন করা যায় সেই প্রচেষ্টা বাজেটে লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও এ বাজেট কতটা জন-আকাক্সক্ষা পূরণ করা সম্ভব হবে তা সামনের দিনগুলোতে বোঝা যাবে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রণীত বাজেটে তেমন কোনো নতুনত্ব নেই। বাজেট উত্তর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

 

বিগত সরকার আমলে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ এনে তা লুটপাট করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশ থেকে মোট ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে। অর্থ পাচারের এই পরিমাণ আসলে আরো অনেক বেশি। বিগত সরকার আমলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, জিডিপির আকার ইত্যাদি তথ্য অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে জাতির সাথে কার্যত প্রতারণা করা হয়েছে। এমনি এক অবস্থায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেট প্রণীত হয়েছে।


বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে বাজেট প্রণয়ন করা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। অর্থ ব্যয় এবং সংগ্রহ এ দু’য়ের মধ্যে সমন্বয় করা খুব কঠিন কাজ। সাধারণত তিন ধরনের বাজেট প্রত্যক্ষ করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক বাজেট, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের বাজেট এবং রাষ্ট্রীয় বাজেট। প্রতি ক্ষেত্রে বাজেটের উদ্দেশ্য থাকে একটি নির্দিষ্ট বছরের আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্য খতিয়ান প্রণয়ন করা। কিভাবে অর্থ উপার্জন করা হবে এবং কোন্ কোন্ খাতে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হবে তা বাজেটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের বাজেটের সাথে রাষ্ট্রীয় বাজেটের একটি ক্ষেত্রে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের বাজেট নির্ধারণ করা হয় আয়ের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ কী পরিমাণ আয় করা সম্ভব হবে তার নিরিখে ব্যয়ের খাত এবং পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। কারণ ব্যক্তি চাইলে তার আয় বাড়াতে পারে না। তাই আয় বুঝে ব্যয় করতে হয়। আর রাষ্ট্রীয় বাজেটে ব্যয়ের খাত বিবেচনায় আয়ের উৎস এবং পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্র চাইলে তার আয় বাড়াতে পারে। যদিও এতে জনগণের ওপর চাপ বাড়ে, দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করেও রাষ্ট্র ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে পারে। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাষ্ট্র সব সময় চেষ্টা করে কিভাবে জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে আর্থিক চাহিদা পূরণ করা যায়। আর বিদেশ থেকে ঢালওভাবে ঋণ নিলে একটি দেশ ঋণগ্রস্ত দেশে পরিণত হতে পারে। এমন কি আন্তর্জাতিকভাবে ঋণ খেলাপি দেশের তকমাও আরোপিত হতে পারে। যেমনটি হয়েছিল দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা।

 


অন্তর্বর্তী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বাজেট প্রণয়নে কিছু বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে থাকলে স্থানীয় নেতাদের চাহিদা মতো অনেক সময় তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পেও অর্থ বরাদ্দ করতে হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সে রকম কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না বলে জাতির জন্য সর্বোত্তম কল্যাণকর খাতে অর্থ বরাদ্দ করতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেটে আমরা কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করছি যা ইতিবাচক। অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। আগের যেকোনো বছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেট অনেকটা বাস্তবসম্মত। তবে বাজেটে যে সব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা কতটা অর্জিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।


২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে বাজেটের আকার আট হাজার কোটি টাকা হ্রাস পাবে। এবারের অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদেশী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থবছরের জন্য বিদেশী ঋণ নেয়া হবে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মেগা প্রকল্পে নতুন করে কোনো ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এ অর্থবছর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে রাখা হয়েছে। এবারের অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে চার লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

 

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। প্রথমে উল্লেখ করতে হয় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার প্রসঙ্গটি। অর্থবছর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার এই সময় প্রায়শই সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। গত অর্থবছরের পুরোটা জুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত বছর জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেই সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৯ মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।


মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশে নিয়ে আসা কি সম্ভব হবে? ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (আইএমএফ) সাম্প্রতিক সময়ে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। বাজেট বা মুদ্রানীতি দিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানো যাবে না। এর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। পরিবহনকালে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এবারের অর্থবছরের বাজেটে শিল্পের বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হবে। এতে শিল্প উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে আশার কথা এই যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করেছে।

 


বর্তমানে আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রত্যক্ষ করছি তা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উল্লেখ্য, করোনা উত্তর বিশ্ব অর্থনীতি যখন উত্তরণের পর্যায়ে ছিল ঠিক তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বব্যাপী পণ্য সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এমনকি বিশ্বের এক নাম্বার অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়। এটা ছিল দেশটির বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বো”চ মূল্যস্ফীতি। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা (ফেড) বিনিয়োগ বন্ধাত্বের ঝুঁকি নিয়েও বারবার পলিসি রেট (কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিডিউল ব্যাংকগুলোকে ঋণদানের ক্ষেত্রে যে সুদ চার্জ করে) বৃদ্ধি করে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার (সিডিউল ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ঋণদানের সময় যে সুদ চার্জ করে) ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। বাজারে অর্থের জোগান হ্রাস পায়। এছাড়া আরো কিছু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়ায় যুুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে। কিছু দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধি করে। অধিকাংশ দেশ অর্থনীতিতে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি শ্রীলঙ্কার মতো দেশও মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার অনুসরণে বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার পলিসি রেট বাড়িয়েছে। আগে পলিসি রেট ছিল ৫ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিš‘ বাংলাদেশ ব্যাংক বিগত সরকারের মেয়াদকালে ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার ৯ শতাংশে ফিক্সড করে রেখেছিল। ফলে উ”চ মূল্যস্ফীতিকালীন সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সস্তা হয়ে পড়ে। এক মুদ্রানীতিকালে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। আর অর্জিত হয়েছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে শিল্পে ব্যবহার্য ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছিল ৭৬ শতাংশ। আর কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমেছিল ১৪ শতাংশ করে।

 

তাহলে ঋণের অর্থ কোথায় গেল? সরকার সমর্থক একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে শিল্প স্থাপনের নামে ঋণ নিয়ে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। এমনকি এ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাজারে রাজনৈতিক প্রভাবিত সিন্ডিকেট বেশ সক্রিয় ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবিত ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমেছে। যে কারণে রমজান মাসে দেশের বাজারে পণ্য মূল্য খুব একটা বাড়েনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দিয়েছেন। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখন ১৪/১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। গত ১০ বছরের মধ্যে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি আর কখনো এতটা কম হয়নি। তার অর্থ হচ্ছে উচ্চ সুদ হারে ঋণগ্রহীতারা নতুন করে ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। বর্তমানে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে নিচে নেমে এসেছে। বিগত সরকার আমলে যেসব উদ্যোক্তা গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার অথবা বিদেশে পাচার করছিলেন তাদের অনেকে এখন জেলে। কেউবা বিদেশে পালিয়ে গেছেন। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহীণের প্রবণতা কমেছে। বাজারে অর্থের জোগান হ্রাস পেয়েছে। মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসার এটা প্রধান কারণ।

 

 

আরো একটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভ্রান্তিকর নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকে বৈদেশিক মুদ্রা, বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা করেনি। কিছু দিন আগ পর্যন্তও প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকায় নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। তখন বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার ১২২/১২৩ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশীরা হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স দেশে প্রেরণ করতে থাকে। পণ্য রফতানিকারদের অনেকে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত রফতানি আয়ের একটি অংশ বিদেশে রেখে দিয়েছিল। এরপর ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হলে এক দিনের ব্যবধানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৭ টাকা বেড়ে যায়। এতে হুন্ডি ব্যবসায় মন্দা নেমে আসে। কিছুদিন আগে ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হয়। কিন্তু এরপর বাজারে ডলারের বিনিময় হার খুব একটা বাড়েনি। ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করায় রেমিট্যান্স আয় বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। অর্থবছরের অনেকটা জুড়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করা সত্ত্বেও প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অতীতে আর কখনো পুরো অর্থ বছরে এত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আহরিত হয়নি। এক মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২৯ কোটি ডলার। মহল বিশেষকে সস্তায় ডলারের প্রদানের লক্ষ্যে বিনিময় হার নির্ধারিত করে রাখা হয়েছিল। এতে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ কমে যায়। ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করায় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ বাড়াতে শুরু করেছে।



এবারের অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে চার লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই অবস্থায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্ধিতকরণ কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

 


দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। জাপানের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও যেখানে ৩৪ শতাংশ সেখানে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও হচ্ছে সাড়ে ৭ শতাংশ। কয়েক বছর আগেও ট্যাক্স-জিডিপি রেসিও ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে খুব দুর্বলতা ছিল। এবারের অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা ব্যয়ে কিভাবে অগ্রগতি হবে বলা হয়নি। বাজেটে পরোক্ষ করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এবারের অর্থবছরে যে কর আহরণ করা হবে তার ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ আসবে পরোক্ষ কর থেকে। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে পরোক্ষ করের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, পরোক্ষ করের হার কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের হার বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।


শিল্প খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা কমানো হয়েছে। এতে বিকাশমান শিল্প খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। গত অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিš‘ এটা যে অর্জনযোগ্য নয় তা কি নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন না? বাংলাদেশের অর্থনীতির যে গতি-প্রকৃতি তাতে উন্নয়ন কার্যক্রম টেকসই ও বাস্তবসম্মত করতে হলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ জিডিপির অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশে যে বিনিয়োগ পরিবেশ বিরাজমান তাতে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবে সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম। বর্তমানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচক প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে স্টার্ট বিজনেস নমে একটি নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান দেখানো হয়েছে চতুর্থ সারিতে। এ রকম বিনিয়োগ পরিবেশে কোনোভাবে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিনিয়োগ আশা করা যায় না।

 


এবারের অর্থবছরের বাজেটে বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন ছিল। কারণ আগামীতে উজান থেকে হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশকে বন্যায় ভাসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হতে পারে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে আমাদের পানির সঙ্কটে ফেলা হতে পারে।

 


দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তিকরণে কর হারপুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তিকরণে বিদ্যমান কর হারের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে লিস্টেড এবং নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হারের ব্যবধান হচ্ছে ৫ শতাংশ। আগামীতে তা সাড়ে ৭ শতাংশ হবে। বর্তমানে বিদ্যমান কর হার মোতাবেক পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২০ শতাংশ হারে করপোরেট ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। তবে এই কর ছাড় সুবিধা পেতে বেশ কিছু কঠিন শর্ত পালন করতে হয়,যা অধিকাংশ কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে করপোরেট ট্যাক্স প্রদান করতে হচ্ছে। নন-লিস্টেড কোম্পানির করপোরেট ট্যাক্স ২৫ শতাংশ হলেও শর্ত পালনে ব্যর্থতায় অধিকাংশ কোম্পানিকে ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। এবারের অর্থবছরে প্রণীত বাজেটে নন-লিস্টেড কোম্পানির করপোরেট ট্যাক্স হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। লিস্টেড কোম্পানির করপোরেট ট্যাক্স ২০ শতাংশ রাখা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মালিকরা যাতে ২০ শতাংশের বেশি করপোরেট ট্যাক্স দিতে না হয় সে জন্য আরোপিত শর্তে কিছু ছাড় দেয়া হয়েছে। এতদিন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২০ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স সুবিধা পেতে সমুদয় আয়-ব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করতে হতো। এ শর্ত পরিপালন করা অনেক কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এবারের বাজেটে শুধু কোম্পানির আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে করার শর্ত থাকবে। অন্য আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করার শর্ত পরিহার করা হয়েছে। এ উদ্যোগ স্বল্প মেয়াদে পুঁজিবাজার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। যেসব কোম্পানি এখনো পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত হয়নি তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী হতে পারে। তবে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে শুধু এই একটি মাত্র পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে হয় না। সমস্যাগ্রস্ত পুঁজি বাজারের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। একটি চিহ্নিত মহল পুঁজিবাজারে নানা ধরনের অপকর্মের সাথে যুক্ত রয়েছে অনেক দিন ধরে। তাদের পুঁজি বাজার থেকে বের করে দিতে না পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে হয় না।


১৯৯৬ এবং ২০২০ সালে যারা পুঁজিবাজার ধসে দায়ী বলে মনে করা হয় তাদের কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এখনো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিরা পুঁজি বাজারে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ উঠলে আঁতকে উঠেন। মনে পড়ে যায় কিভাবে গুজব সৃষ্টি করে লাখ লাখ মানুষের পুঁজি কেড়ে নেয়া হয়েছিল। পুঁজি বাজার কেলেঙ্কারিতে যার নাম সবার আগে উ্চ্চারিত হয় সেই ব্যক্তিটি সরকারের উপদেষ্টা পর্যন্ত হয়েছিলেন।

 


বাজেটে প্রসঙ্গ এলে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র সম্পর্কে জানতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বিগত সাড়ে ১৫ বছরের স্বেচ্ছাচারী শাসনামলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার জের এখনো আমরা বয়ে চলেছি। অন্তর্বর্তী সরকার বা যে পদ্ধতির সরকার দায়িত্ব পালন করুক না কেনো রাতারাতি অর্থনীতি উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ৫০ লাখ। গত ডিসেম্বরে ২৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ বেকারের হার বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যে পদ্ধতিতে বেকারের সংখ্যা নির্ধারণ করে তার যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

 

জুলাই-এপ্রিল, ২০২৩-২০২৪ এ রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৬৬১ কোটি ডলার, যা জুলাই-এপ্রিল, ২০২৪-২০২৫ এর এসে চার হাজার ২১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। একই সময়ে প্রবাসী আয় এক হাজার ৯১২ কোটি ডলার থেকে দুই হাজার ৪৫৪ কোটি ডলারের উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত জুলাই-এপ্রিল সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকার স্থলে আদায় হয়েছে দুই লাখ ৮৯ কোটি টাকা। প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট-জিডিপি রেশিও ছিল ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা বর্তমানে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এটা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক উদ্যোগে বিদেশী বিনিয়োগ আহরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন বেশ সাড়া জাগিয়েছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ১২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় চীনা বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্প-কারখানা আশপাশের দেশে স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করছেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হতে পারে প্রধান গন্তব্য।


অন্তর্বর্তী সরকারকে নানামুখী সমস্যায় বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তবে বাজেট যেভাবে প্রণীত হোক না কেনো মূল বিষয় হচ্ছে বাজেট ঠিক মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা।

এম এ খালেক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: [email protected]

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us