পর্তুগাল, ইউরোপের রাজকন্যা
পর্তুগালের একটি দর্শনীয় স্থান - সংগৃহীত
দুই দশকেরও আগের কথা, তবুও পর্তুগালের স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে মনে। ভাস্কো দা গামা আর ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর দেশ বলে কথা। স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব আমি। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে মাদ্রিদ থেকে যাব লিসবন ভ্রমণে, ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ৬২৫ কিলোমিটার পথ। নিজের গাড়ি নেই, অন্য কারো ব্যক্তিগত গাড়িও পাওয়া গেল না। রোহিঙ্গা পরিচয়ে বাঙালি মাহমুদ আছে এদেশে বহুদিন, গাড়ি চালায় ভালো কিন্তু লং-ড্রাইভে তার ভাঙা গাড়ি চলবে না। সে অবশ্য ৯ সিটের গাড়ি ভাড়া করতে চাচ্ছে, তার বস কমার্শিয়াল কাউন্সিলরকে নিতে চায় সপরিবারে। আমি একদম রাজি না। ভ্রমণে গিয়ে কারো সাথে মন কষাকষি করতে চাই না। ভ্রমণ হবে আনন্দের, সমমনাদের সাথে রঙেঢঙে তরঙ্গে।
বারিও দেল পিলারে গিয়ে ‘টনস অ্যান্ড কারস’ থেকে গাড়ি ভাড়া করলাম ৪০ হাজার পেসো দিয়ে (একডলারে ১৫৮ পেসো)। চিকেন আনতে আবার গেলাম দিয়েগো দে লেয়ন, আলকাম্পো থেকে জুস পানি ব্রেড ও জ্যাম কিনলাম। রাতে রাষ্ট্রদূতের বাসা থেকে ওই ২৪ পেট্রোল কার্ড আনলাম, অন্তত জ্বালানি খরচটা যেন পকেট থেকে না যায়। রাত ১১টায় অনি-আমি গেলাম মেন্দেজ আলভারো, বার্সেলোনা প্রত্যাগত মোমেন ভাই, বুলবুলকে রিসিভ করতে। বুলবুল এসেছে আদম হয়ে এদেশে ভাগান্বেষণে, তাকে নিয়ে মাথা গরম : কোথায় রাখি, কী করি, কী বলি।
সকাল ১০টায় রওনা দিলাম। আমরা তিনজন, মোমেন ভাই, বুলবুল। গাড়ি চালাচ্ছে মাহমুদ। রেস্ট নেয়া হলো অনেক জায়গায়- ত্রুখিয়ো, মেরিদা, বাদাখোজ কিন্তু কখন যে সীমান্ত পার হয়ে নতুন এক দেশে ঢুকলাম, মাহমুদ না বললে বুঝতামই না যে স্পেন শেষ, পর্তুগাল শুরু। কেউ নেই সীমান্ত চৌকিতে! পাসপোর্ট চেকিং বা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স দূরের কথা, গাড়ি পর্যন্ত থামল না এক মিনিট। দেশে ঢোকার পরও প্রচুর সময় চালিয়ে গেল পর্তুগাল ন্যাশনাল রোডে। অলিভসহ সবুজাভ গাছে ভরা এদেশের সমতল উর্বরভূমি। ৫টার পর পৌঁছালাম লিসবোয়ার সমুদ্র তীরবর্তী শহর কোস্তা দা কাপারিকা। উঠলাম মাহমুদের পরিচিত ‘গাজীপুরের বেয়াই’ তমিজ ও শাহজালালের বাসায়।
খাওয়া শেষে গেলাম ঘরের পেছনেই ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুদৃশ্য সি-বিচ, সম্মুখে অনন্ত অথৈ আটলান্টিক মহাসাগর। সূর্যের ক্লান্ত আলোতে মাছ ধরছে জেলেরা, পর্যটকরা সার্ফিং করছে, মেয়েরা রৌদ্রস্নান। সন্ধ্যায় ঘুমাতে গেলাম সপরিবারে, ওরা যাক যার যেখানে ইচ্ছা। ডিনার খেতে গেলাম বিক্রমপুরের শাহ আলম ও ইকবালের বাসায়। দু’তলা নতুন বাসা, অধিকাংশ বাঙালি থাকে সিঙ্গেল। বুলবুল তার সঙ্গী পেয়ে গেছে : মতি (উর রহমান), ক্লাসমেট দিয়ে যদি হয় কোনো গতি।
পরদিন সকালে আমরা তিনজন হাঁটতে বের হলাম। মিনি দে প্রেসিয়ো/দিয়া থেকে অনির জন্য খাবার কিনলাম। বেয়াইর বাসায় সামান্য খেয়ে বের হলাম সবাই। প্রথমেই পাহাড়ি দুর্গের ঐতিহাসিক শহর সিন্ত্রা, যেখানে প্রাগৈতিহাসিক মানববসতি, রোমান এবং মূর মুসলিম শাসনের শিক্ষণীয় নিদর্শন বিদ্যমান। পাহাড়ের উপরে মনোহর প্রাকৃতিক সেটিংয়ে নির্মিত প্যালাসিও দ্য পেনা, সর্বশেষ রানির রোমান্টিক বাসস্থান (১৯১০) পরিপাটি করে সংরক্ষিত। আরো আছে ন্যাশনাল প্যালেস, মূরিশ ক্যাসেল, নেচার পার্ক- বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন কীর্তি-কত দেখব! তারপর এলাম আটলান্টিকের তীরে কাবো দা রোকা-ইউরোপীয় ভূখণ্ডের সর্বশেষ পয়েন্ট, এখানে পা রেখে ভ্রমণপিপাসু মোমেন ভাই এক্সাইটেড, সাগর পাড়ি দিলেই আমেরিকা! কলম্বাস তো তা-ই করেছিল।
আসার পথে সবাই লাঞ্চ খেলাম বিফ প্লাঞ্চা। হোস্টের অনেক টাকা গেল, প্রায় আট হাজার ইস্কোদো (একডলারে ১৯০), মাহমুদের মতো আমারও খারাপ লাগল। বিকেলে বেলেম গেলাম সুবিশাল জেরোনিমস মনাস্টেরি (১৪৯৫) দেখতে, যেখানে শায়িত আছে ভাস্কো দা গামা (১৪৬০-১৫২৪ খ্রি.)। সংলগ্ন চার্চে প্রেয়ার হচ্ছে, নীরবে বসে একটু দেখলাম তাদের প্রার্থনার রীতিনীতি। তেজো নদীর উপর তরে দা বেলেম (১৫১৩) দেখলাম, সে এক বিশালাকার মধ্যযুগীয় দুর্গপ্রাসাদ। কাস্টেলো দ্য সাওজর্জি হলো মুসলিম শাসকদের নির্মিত প্রাসাদ। পুরোনো শহর আলফামার অলিগলিতে পুরোনো গান বাজে এখনো। লিসবন ক্যাথিড্রাল এদেশের রোমান-গোথিক ও বারোক ঐতিহ্যের স্থাপত্যস্মারক। বিখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধিস্থল হলো ন্যাশনাল প্যানথিয়ন।
লিসবনে দেখার মতো আরো আছে প্রাসা দো কমার্সিয়ো, একোয়ারিয়াম, ট্রাম ২৮, ডিসকভারি মনুমেন্ট, টাইলস এবং কোচ/গাড়ির জাদুঘর। যুবা পর্যটকদের জন্য আছে রাতের শহর বাইরো আলতো, সাইডো, কাইস দো সদ্রে। পকেট ভারী থাকলে খেতে পারেন ফ্রেশ উপকরণ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু সুগন্ধি বৈচিত্র্যময় পর্তুগিজ খাবার : আলু মরিচ ডিম মসলা ও অলিভওয়েল দিয়ে লবণাক্ত/ভাজা কডফিস (বাকালাউ), রোস্টেড চিকেন (পর্ক জনপ্রিয়), হাঁস বা মাছ দিয়ে ভাত (আরজ দ্য পাতু/মারিসকো), রুটি-সালাদ দিয়ে ভাজা/গ্রিল্ড সার্ডিন বা অক্টোপাস, মাছ-সবজির কালদো, সসেজ, কালদোভার্দে বা একর্দা স্যুপ, কাস্টার্ড টার্ট (পাস্তেল দ্য নাতা), কাতাপলানা, পেস্ট্রি ও ফিশকেক।
তৃতীয় দিন। আমরা উঠে তৈরি হয়ে নিলাম। বিক্রমপুরের ইকবাল তার দেশী আপা-ভাগ্নের জন্য নাশতা আনল সকালে। বাবুল সরকারও চাঁদপুরের মিষ্টি খাওয়াল। বেয়াইর বাসায় এসে সবাই বের হলাম একসাথে। প্রথমেই গুলবেনকিয়ান মিউজিয়াম। ২০০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে বিংশ শতাব্দীর অনেক সেরা শিল্পীর মাস্টারপিস আছে এই সংগ্রহশালায়, কারণ প্রতিষ্ঠাতার মটো ছিল : অনলি দ্য বেস্ট। প্রায় ছয় হাজার আইটেমের মধ্যে পাওয়া যাবে বিভিন্ন যুগ ও সভ্যতার নিদর্শন : পেইন্টিং, স্কাল্পচার, জুয়েলারি, কার্পেট, কত কিছু। সবাই দেখে বিমুগ্ধ, আমি স্তব্ধ- কী করে একটি জাদুঘর এত সমৃদ্ধ হয়! তারপর এক্সপো ’৯৮ ভেন্যু। একই সাথে ১৯৯৮ সালে ওরা ভাস্কো দা গামার ইন্ডিয়া আবিষ্কারের ৫০০তম বার্ষিকীও পালন করেছে। বিশাল ব্যাপার, তেজো নদীর তীর ঘেঁষে করেছে সব স্থাপনা। সেভিয়া এক্সপো ’৯২ থেকেও জাঁকজমক বেশি মনে হলো এখানে। অন্যসব দেশের সাথে এখনো উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা। পর্তুগালের সেই বিখ্যাত ১৭.২ কিলোমিটার ভাস্কো দা গামা ব্রিজ দেখলাম, যা ইউরোপে দীর্ঘতম। প্রভা-অনি গেল ভাস্কো দা গামা মার্কেট, নতুন দেশে কিছু তো কেনাকাটা দরকার। এদেশের ওয়াইন, অলিভওয়েল, কর্ক এবং টমেটো সস চলে দুনিয়াজোড়া।
বিকেলে কেরানিগঞ্জের লেহাজউদ্দিন ও ১৭ সঙ্গীর সাথে পিকনিকে যোগ দিতে গেলাম ২৮০ কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পর্তো, বিদেশীরা বলে অপর্তো। খেলাম বেশ মজার বিরানি বাঙালিদের। কে কী দেখাবে, পরে নিজেরাই মেট্রোতে ঘুরতে বের হলাম। বৃষ্টির জ্বালায় শহরকেন্দ্র বাইসা গিয়েও বেশি কিছু দেখতে পারলাম না। সময়াভাবে একনজরে দেখলাম কাসা দা মিউজিকা, চার্চ-ক্যাথিড্রাল, টাওয়ার, সিটি হল, বলসা প্রাসাদ। রোমানদের দিয়ে শুরু পর্তো শহরের ঐতিহাসিক পুরোনো অংশ হলো ইউনেস্কোর ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট। স্থানীয়রা বলে পর্তো হল ‘প্রাচীন, অভিজাত, অনুগত ও অপরাজেয় শহর’। মাহমুদ বাংলাদেশী ইলিশ, সবজি, মরিচ ইত্যাদি কিনতে বের হয়ে গেল আমাকে নিয়ে। গিয়ে দেখি বাঙালির আরেক জগৎ- সিঙ্গাপুরের সেরাঙ্গুন!
এক দিনের পর্তো ভ্রমণে অনেক কিছুই দেখা হলো না- অতৃপ্ত ক্ষুব্ধ মনে লিসবোয়া ফিরে এলাম বিকেলে। স্পেনে ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। সময় পেলে দেখা যেত ক্যাথলিক তীর্থস্থান ফাতিমা এবং মদের রাজ্য দওরো ভ্যালি। প্রভা তো আরো অখুশি আমাদের উপর, ভোর ৫টার মধ্যে কেন পৌঁছতে হবে মাদ্রিদ! যাক, রাত ১০টায় রওনা দিলাম। সারাপথে সবাই কথা বললাম, যখন যা মনে আসে, পাছে চালক ঘুমিয়ে পড়ে!
ভোর ৪টায় এসে গাড়ি পৌঁছল বাসায়। মাহমুদসহ সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। দেশ থেকে আনা রুইমাছের বড় বড় পেটি দিয়ে প্রভা আমাদের ভাত-নাশতা খাওয়াল। যথাসময়ে অফিসে গেলাম। আমার মানিব্যাগ কোথায়? ম্যাডামের পেট্রোল কার্ড, আমার ব্যাংককার্ড, আইডি সবই ওখানে। পাগলের মতো অবস্থা, গেলাম দৌড়ে সেই রেন্টেড গাড়ির দোকানে, গাড়ির পকেটে পাওয়া গেল সব। ওহ আল্লাহ, তুমিই রক্ষাকারী। আসা-যাওয়া এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথে তিনবারে ১৩০ লিটার পেট্রোল নেয়া হলো, ১০০ ইউরো বাঁচল আমার।
পর্তুগাল সফর করলাম, একথা মনে পড়লেই শিহরণ জাগে এ কারণে যে, সুদূর ইউরোপের এমন একটি সুন্দর সমৃদ্ধ দেশ জয় করেছিল মুসলিমরা। মধ্যযুগে ৭১১-১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দ সময়ে স্পেন-পর্তুগালসহ পুরো ইবেরিয়ান উপদ্বীপ উমাইয়া শাসকদের অধীনে আরব-মুরিশদের দখলে ছিল, যার নাম ছিল আল-আন্দালুস। যখন খ্রিষ্টানরা জেগে উঠল সম্মিলিতভাবে, মুসলিমরা ব্যস্ত গোষ্ঠীস্বার্থের কলহ-বিবাদে, মুরিশ গৌরব অস্তাচলে গেল ধীর লয়ে। শুরু হলো পর্তুগিজ নাবিকদের নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের তাড়না ও অনুপ্রেরণা। সাগরতীরে একটি ছোট্ট জাতির ছোট জনসংখ্যার দেশ পর্তুগাল, তারাই নাকি জাহাজে করে বেরিয়ে পড়েছে অজানা অচেনা দেশের সন্ধানে। এশিয়া (গোয়া ১৪৯৮, ম্যাকাও, মালয়, ওমান, জাপান, তিমুর), আফ্রিকা ও আমেরিকায় (ব্রাজিল ১৫০০) তারা আবিষ্কার করেছে বহু অজানা অজ্ঞাত স্থলভূমি, সমুদ্রপথ এবং বাণিজ্যবন্দর।
দখল/শাসনকৃত অঞ্চলগুলি স্বাধীন হয়ে গেলেও অদ্যাবধি পর্তুগিজ সংস্কৃতির প্রভাবও রয়েছে পৃথিবীর অনেক দেশে। এখনো পর্তুগিজ স্থাপত্যের স্থাপনা দেখা যায় এশিয়া-আফ্রিকা-ল্যাটিনদের বহু দেশে। সাহিত্য সঙ্গীত নৃত্যনাট্য চলচিত্র চিত্রকলা খাদ্য পানীয় ক্রীড়া ও বিশ্বভ্রমণে পর্তুগিজদের রয়েছে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু-কিশোর-যুবা-বৃদ্ধ, সবার কাছেই সুপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইউরোপের পশ্চিমপ্রান্তে থাকা এই সহজলভ্য রাজকন্যা।
পৃথিবীর ১০টি দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা পর্তুগিজ। অ্যাংগোলা, ব্রাজিল, কেপভার্দে, গিনি-বিসাও, মোজাম্বিক, পর্তুগাল, সাওতুমে-প্রিন্সিপে, পূর্ব-তিমুর, ইকোয়েটরিয়াল-গিনি, ম্যাকাও। প্রায় ৩০ কোটি মানুষ এই ভাষায় কথা বলে, এটি প্রায় দুই কোটি লোকের দ্বিতীয় ভাষা। এসব দেশ ও জাতিকে সম্মিলিতভাবে বলা হয় লুসোফোন (যেমন- ফ্রাঙ্কোফোন)। পর্তুগিজকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম ভাষা। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থায় চলে পর্তুগিজ ভাষা। পৃথিবীর আরো অনেক দেশে, উরুগুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও স্পেনের কিছু শহরে পর্তুগিজ চলে। পর্তুগিজ অভিবাসী আছে অ্যান্ডোরা, বারমুডা, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, লুক্সেমবার্গ, নামিবিয়া, প্যারাগুয়ে, সুইজারল্যান্ড, ভেনিজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের মাতৃভাষা পর্তুগিজ।
১৫৩০ সালের দিকে কয়েক বছরের সংস্পর্শে এমনকি আমাদের বাংলা ভাষায় রয়েছে প্রচুর পর্তুগিজ শব্দ : কেদারা, কামরা, জানালা, বারান্দা, চাবি, গামলা, বালতি, বোতল, বৈয়াম, বাসন, বয়া, বেহালা, আলমারি, গুদাম, ইস্পাত, গির্জা, সায়া, কামিজ, সালোয়ার, তোয়ালে, আয়া, আলপিন, বোতাম, পাউরুটি, (বাঁধা) কপি, জাম্বুরা, আনারস, পেয়ারা, আতা, নিলাম, ফালতু, মিস্ত্রি, ইস্ত্রি, কার্তুজ, আলকাতরা, মাস্তুল, পেরেক, জুয়া, টাংকি, কাজু, ক্রুশ, পাদ্রি, যিশু, ইংরেজ, মর্মর, পিপা, পিরিচ, ফিতা, চুরুট, সাবান, সন্ত ইত্যাদি। চট্টগ্রাম, সাতগাঁও, বন্দর ও ঢাকায় তারা দস্যুতা, দাসব্যবসায় ও বাণিজ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে স্থানীয় মগ-আরাকান এবং বিদেশী শক্তিগুলোর সাথে। আমাদের মসলিন সুতা সিল্ক রফতানি করেছে এশিয়া-ইউরোপে, এদেশে চালু করেছে গোলমরিচ তামাক টমেটো পেঁপে গোলআলু পনির এবং খ্রিষ্টধর্ম।
আধুনিককালে পোশাক, ফ্যাশন, কিচেনওয়ার, আসবাবপত্র ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানিতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল।
ইউরোপের এই রাজকন্যাকে দেখতে আসে বছরে ২৭ মিলিয়ন পর্যটক অথচ আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে ছোট (৯২ হাজার বর্গকিলোমিটার) এই দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১১ মিলিয়ন। আরামদায়ক অনুকূল পরিবেশের কারণে আনুমানিক ষাট-সত্তর হাজার বাঙালির সাথে প্রচুর বিদেশী, বিশেষত ব্রাজিলিয়ান, আফ্রিকান ও ইউরোপিয়ান বসবাস করে এদেশে। যথারীতি সিলেটি, নোয়াখালীও প্রচুর। ক্ষুদ্র ব্যবসায়, রেস্টুরেন্ট ও কৃষিতে জড়িত তারা। লিসবনের ‘মার্তিম মনিজ’-এ বাঙালিদের আড্ডাখানা। চলুক আড্ডা, বাঙালি ও বাঙালিয়ানা ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বে।









