যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নে রিয়াজ হোসেন (২৯) নামে একাধিক মামলার আসামিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াজ হোসেন ধলিরগাতী গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে (১৭ই জুন) পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়াজ হোসেন এলাকায় বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে কে বা কারা তাকে ধলিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ডেকে নিয়ে যায় অথবা সেখানে পেয়ে নির্মমভাবে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সবুজ জানান, রাত প্রায় ২টার দিকে রিয়াজ হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত ও ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় রিয়াজ হোসেন নিহত হয়েছেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার প্রভাব ও কর্মকাণ্ডে অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।