মেহেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদুল ফিতরের বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। সময়মত বেতন বোনাস পেয়ে বেজায় খুশি পৌরসভায় কর্মরতরা। মাসের বেতন মাসে পাওয়া তো দূরে থাক, মাসের পর মাস বেতন ভাতা বকেয়া থাকায় ছন্দহীন ছিল এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন। নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রাপ্তি পৌরসভার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
জানা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারী ৮০ জন, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ৪৬ জন ও ১০৮ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর বেতন বোনাস গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পরিশোধ করেছে পৌরসভা কর্তপক্ষ।
তবে, পূর্বের ২৭ মাসের বেতন-ভাতা ও গ্রাচুয়িটি ফান্ডের টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই পর্যায়ক্রমে বকেয়া পাচ্ছেন। পৌরসভার আয়ের উপর নির্ভর করে বর্তমান মাসের বেতনসহ বকেয়া দিয়ে যাচ্ছে পৌরসভা।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রয়ারি মাসের বেতন বাবদ ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৩১২ টাকা, বোনাস ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩০ টাকা, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের দৈনিক হাজিরা বাবদ ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। একইসাথে বর্তমান প্রশাসকের মেয়াদকালে অবসরপ্রাপ্ত ১৯ জনের ৫২ লাখ ৫ হাজার টাকা বেতন-বোনাস ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, এর আগে পরিচ্ছন্নকর্মীদের দিন হাজিরার টাকা হাতে হাতে দেওয়া হতো। তবে আর্থিক স্বচ্ছতার লক্ষ্যে তাদের নিজ ব্যাংক হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
মেহেরপুর পৌরসভার উচ্চমান সহকারী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘১ তারিখের আগেই পূর্ব মাসের বেতন পাওয়ার বেশ সৌভাগ্যের। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ আনন্দে আছেন তারা।’
মাসিক বেতন এভাবে নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্তি অব্যহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি।
পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আরজিয়া খাতুন জানান, মাসের বেতন নিয়মিত পাওয়ার পাশাপাশি বকেয়া থেকে আরও কয়েক মাসের বেতন পেয়েছি। আর্থক সমস্যা থাকায় প্রশাসক বরাবর বকেয়া বেতন প্রাপ্তির জন্য আবেদন করার পর কিছু মাসের টাকা পেয়েছি।
মেহেরপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগের পরে পৌরসভার চিত্র পাল্টে গেছে। আয় বাড়ার পাশাপাশি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এসেছে। এতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন সহজ হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি হাট বাজার ইজারা নীতিমালা অনুসরণে যথাসময়ে ইজারা প্রদান এবং বকেয়া টাকা আদায় কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন ইজারা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গড় ইজারা দেওয়া হয়েছে পৌর গড় পুকুর। চলতি বছরে যার ইজারা থেকে আয় হয়েছে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বড় বাজার, শাহ আলম মার্কেট, বড় বাজার সাইকেল স্ট্যান্ড, কসাইখানা, বাস টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল পুকুর, পশু হাট সাইকেল স্ট্যান্ড ও বড় বাজার গণশৌচাগার ইজারা দেওয়া হয়। গত বছরের চেয়ে এবার ইজারা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। বিগত বছরের ইজারা মূল্য ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং চলতি বছরে (আগামী বৈশাখ থেকে) ইজারা মূল্য বেড়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
যার মাধ্যমে পৌরসভার আর্থিক কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছলতা আসবে বলে মনে করছেন পৌরসভা কর্তপক্ষ।
কেকে/এমএ