নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা, মারপিট ও স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাঘনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নূর ভক্ত ফকির প্রতিবেশী আবু সাঈদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাঘনা গ্রামের মৃত রুকতন ফকিরের ছেলে নূর ভক্ত ফকিরের সঙ্গে একই গ্রামের আবু সাঈদ গংদের দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে ঈদের দিন শনিবার আবু সাঈদ গংরা নূর ভক্ত ফকিরের বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী তন্নী আক্তারকে গালাগালি শুরু করে। একপর্যায়ে তন্নীকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বসতবাড়ির উঠানে নিয়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং তার চুলের মুঠি ধরে টানাটানি ও শ্লীলতাহানি করে।
এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে নূর ভক্ত ফকিরকে দা ও রামদা দিয়ে কুপানোর চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেশী রুবেল ঝগড়া থামাতে এসে ঘটনাস্থলে আহত হন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে মদন হাসপাতালে রয়েছেন।
এ সময় বসতঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে নূর ভক্ত ফকির ও তার স্ত্রী মদন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের সালাম জানান, নূর ভক্ত গোপনে তার বৃদ্ধ চাচাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একটি আইডি কার্ড নেন। পরে সেই কার্ড ব্যবহার করে সুকৌশলে তার চাচার কাছ থেকে ৩২ শতাংশ জমি দলিল করে নেন। এ বিষয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ‘‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’’
কেকে/এসএ