আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফলজ গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সঙ্গে একই এলাকার মুঞ্জির বেপারী, মো. জনি, অঞ্জনা বেগম, হেলেনা বেগম, শিরিনা বেগমসহ আরও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মুঞ্জির বেপারীসহ তার সহযোগীরা দা ও ছেনিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দেলোয়ার হোসেনের বসতবাড়ির সামনে এসে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেলোয়ার হোসেন নিজ বসতঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে থাকা ৪৮টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ কেটে ফেলে ও সেগুলো জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জানা যায়, উক্ত সম্পত্তি নিয়ে মতলব সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা চলছে। মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আদেশ বিদ্যমান রয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, ছোট চরকালিয়া মৌজার সিএস, আরএস ও বিএস খতিয়ানভুক্ত একাধিক দাগে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।
দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “মুঞ্জির বেপারীসহ তাদের লোকজন এসে আমার বাড়ির সামনের ফলজ গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী পক্ষের মুঞ্জির বেপারী বলেন, “আমি চাকরির কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলাম না। প্রায় তিন মাস আগে অবসরে এসে এলাকায় ফিরেছি। জমিটি নিয়ে আদালতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেলোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজন জমিতে বালু ফেলে ভরাট করেছেন। এ কারণে আমি শুধু বাড়ির সামনের আগাছা পরিষ্কার করেছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।”
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, ‘‘অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
কেকে/এসএ