ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে মোলাসেস (অ্যালকোহল তৈরির কাঁচামাল) চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিন আগে হওয়া ভারী বৃষ্টির ফলে সুগার মিলের মোলাসেস পাইপ লিকেজে পাশের একটি পুকুরে চলে গেলে তা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত মোমিন নামের শ্রমিক ১৩ ড্রাম মোলাসেস চুরি করে নিয়ে গেলে তা জানাজানি হয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সুগার মিলের মোলাসেস চুরির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালেই সুগার মিল সংলগ্ন হরিহরপুর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে ১৩টি মোলাসেসের ড্রাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মালাসেস মিল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মোলাসেস চুরির সাথে জড়িত মোমিনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও চুরির ঘটনায় আরো বিশদ তদন্ত করতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতন বলেন, ‘মিলের মোলাসেস পাইপ লিকেজের বিষয়ে চুরির যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের কাজের সাথে মিল কর্তৃপক্ষ বা শ্রমিক ইউনিয়নের কেউ জড়িত থাকতে পারে না। যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সে মিলের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগের ঠিকাদার। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘সন্দেহভাজন শ্রমিক মোমিন পলাতক রয়েছে। উদ্ধারকৃত ১৩ ড্রাম মোলাসেসের কোনো মালিকানা পাওয়া না যাওয়ায় তা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখছি।’
সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির বলেন, ‘মেইন হাউসের পাইপলাইনে লিকেজের ঘটনায় কিছু মোলাসেস মিল সীমানার কাছের একটি পুকুরের পানিতে মিশে যায়। বিষয়টি জানার পর কিছু মোলাসেস নিজস্ব জনবল দিয়ে উদ্ধার করে মিলে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেকে/এমএ