কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে ডুবে যায় ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ, অথচ একই সময়ে সোলার সংযোগে প্রশাসনিক অফিসগুলোতে ফ্যান ঘুরতে দেখা যায়। এমন বৈষম্যমূলক চিত্রে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অফিসকেন্দ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা চালানোর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘনঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও তা চালু না করায় ভর্তি হওয়া রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। শুধুমাত্র হাইব্রিড সোলার প্যানেল সংযোগে লাইট জ্বলছে। একটি ফ্যানও ঘুরছে না। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। এসব রোগীদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছেন স্বজনরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাও। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস কক্ষে সোলার প্যানেল সংযোগ সচল থাকায় ফ্যান, লাইট নির্বিঘ্নে চলছে।
বুধবার রাতে সদর ইউনিয়নের নতুনবন্দর গ্রামের মাজু মিয়া (৬১) শারীরিক দুর্বলতার সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ‘ভর্তির পর থেকে বিদ্যুৎ ঘনঘন লোডশেডিং হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে দিনের সোলারের লাইট জ্বললেও চলে না ফ্যান আর কিছুক্ষন পর ওই লাইটও বন্ধ হয়ে যায়। এতে অন্ধকার ও গরমে থাকতে কষ্ট হয় হাসপাতালে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগীর ওয়ার্ডে ময়লা যদি নিয়মিত পরিস্কার করতো, তাহলে হাসপাতালের পরিবেশটা ভালো থাকতো।’
বুধবার সকালে ঠান্ডাজনিত রোগের কারনে জহুরা খাতুনের পাঁচমাস বয়সের শিশু সন্তান আবরার ফারহাদ জায়ানকে ভর্তি করান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তিনি জানান, ‘বিদ্যুতের অনেক সমস্যা। বাচ্চাকে নিয়ে গরমে অনেক কষ্টে আছি। যদি জেনারেটর চালু থাকতো, তাহলে ভালো হতো।’
বুধবার বিকালে কাওসার হোসেন তার খালা কেয়া মনিকে (৪২) রক্ত শূন্যতার কারনে ভর্তি করান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওয়ার্ডে আমাদের রোগীরা গরমে কষ্ট পাচ্ছে, অন্ধকারে পড়ে থাকে। কিন্তু অফিসে ফ্যান চলছে, লাইট জ্বলছে। অথচ একজন রোগীকে হাতপাখা দিয়ে দুই-তিনজন মিলে গরমের কারনে বাতাস করতে হচ্ছে। শুনেছি, জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে; কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেনারেটর চালাচ্ছে না কেন?’
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘রোগীদের জন্যই তো হাসপাতাল, কিন্তু এখানে মনে হয়, অফিসটাই বেশি গুরত্বপূর্ণ। এই অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসা নেওয়া আরও কষ্ট কর হয়ে যাবে।’
নাম প্রকাশনা করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কর্মচারী বলেন, জেনারেটর চালু করা হয় মাসে দুই-তিনদিন। এটা মূলত অফিস ও কিছু নির্দিষ্ট কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘জেনারেটর সচল রয়েছে। কিন্তু তেল সাশ্রয়ের জন্য দিনে বন্ধ রাখা হয় ও রাতে চালু করা হয়। তবে সোলারের লাইট দিন-রাত জ্বালানো থাকে।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সোলারের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে চালু রাখা সম্ভব হয়না। তাই শুধুমাত্র অফিসগুলোতে ফ্যান-লাইট চলে।’
কেকে/ এমএস