নীলফামারীর মাটি থেকে উঠে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দোহা ছিলেন সংগ্রাম, সাহস ও নীতির এক অনন্য প্রতীক। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
গণঅভ্যুত্থান ও ১১ দফা আন্দোলনে ভূমিকা
তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্ব পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন জোরদার করতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদান
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সম্মুখ সমরে অংশ নেন এবং ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করেন। তার নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
জনতার নেতা হিসেবে উত্থান
স্বাধীনতার পর রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি নীলফামারী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
নীতিবান ও নির্লোভ রাজনীতিক
সমসাময়িক রাজনীতির নানা পরিবর্তনের মধ্যেও সামসুদ্দোহা ছিলেন আদর্শিক ও নীতিনিষ্ঠ। ক্ষমতা বা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং জনগণের কল্যাণই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি। তার সংগ্রামী জীবন, সততা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সামসুদ্দোহার মৃত্যুতে শুধু একজন রাজনীতিক নয়, হারিয়েছে এক আদর্শ, এক ইতিহাস—যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।
কেকে/ এমএস