নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের কাস্য়গ্রাম বাজার থেকে শতক বাজার সড়কের মাঝখানে ললমা নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম দেওয়ান গোলাম সরওয়ার হাদী গাজীর উদ্যোগে নির্মিত এই সেতুটি বর্তমানে প্রায় ৩৯ বছরের পুরোনো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২২ বছর ধরে সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়েই প্রতিদিন দেবপাড়া ও গজনাইপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মৌলভীবাজার সদরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।
সেতুর জীর্ণদশার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও আশ্বাসের বাইরে বাস্তব কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে তা আর বাস্তবায়িত হয় না।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শতক গ্রামের শফিউল আলম বলেন, হাওর থেকে ধান ঘরে তোলার জন্য এই ব্রিজই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ট্রাক্টর নিয়ে ধান পরিবহন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।এছাড়াও সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘঠছে।
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদপুর গ্রামের আবুল খায়ের কায়েদ বলেন, পুরোনো এই ব্রিজটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক আগেই এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ বা সংস্কার করা হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে এবং মৌলভীবাজারে যাতায়াতও হবে সহজ ও নিরাপদ।
দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কেকে/ এমএস