গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে এক যুবক এবং তার বন্ধুকে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভাটিয়াপাড়া-যশোর মহাসড়কের বুধপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোছা. তানিয়া (২৮), অসীম ফকির (৪০), জসিম ফকির (৩৫), সান্টু মোল্যা (৪৪) ও সুজন মোল্যা (৪৫)।
তারা সবাই কাশিয়ানী ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের কাজী শাকিল আহমেদের সঙ্গে কয়েক দিন আগে মুঠোফোনে পরিচয় হয় তানিয়া (২৮) নামের এক নারীর। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তানিয়া বুধবার সকালে শাকিলকে কাশিয়ানীর মধুমতী টোল প্লাজা এলাকায় দেখা করতে বলেন। শাকিল তার বন্ধু নাহিদ মৃধাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে তানিয়াসহ ৫-৬ জন তাদের ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নে।
ভুক্তভোগী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘তানিয়ার ডাকে সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাঁরা আমাদের ওপর হামলা করেন। কিল-ঘুষি মেরে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে।’
ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচজনকে আটক করে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার অসীম ফকিরের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও লোহাগড়া এলাকায় সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে আসছিল।’
এ ঘটনায় শাকিল আহমেদ বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান মাহফুজুর রহমান।
কেকে/এমএ