নেত্রকোনার মদন উপজেলার চার ধান ফরিয়াদার দ্বন্দে এক দরিদ্র নৌকা মালিকের সর্বনাশ হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের রামদাসখিলা গ্রামের দরিদ্র মনু মিয়া তিন ফরিয়াদারের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলার মৃত আলী আকবরের ছেলে মনু মিয়া বোরো মৌসুমে আয় রোজগার করার জন্য একটি স্টীল বডি নৌকা কিনেন। ঘাটুয়া গ্রামের কাছুম আলীর ছেলে হারুন মিয়া, জয়নাল মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন, মৃত আমজাদ মিয়ার ছেলে জহিরুল মিয়া ও পদারকোণা গ্রামের রাজ্জাক তালুকদারের ছেলে আল আমীন তার নৌকাটি দৈনিক হিসেবে ১১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া নেন মৌসুম চুক্তিতে। তবে এর মধ্যে ফরিয়াদার হারুন, আনোয়ার, জহিরুল মিয়াদের মধ্যে আল আমীনের সাথে ব্যবসায়ের টাকার লেনদেন নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। পরে ধান ক্রয় হয়েছে বলে মনু মিয়ার নৌকাটি হারুন তাদের ঘাটে নিয়ে ডুবিয়ে রাখে।
মনু মিয়া নৌকা আনতে গেলে আল আমীন তাদের লেনদেন শেষ না করা পর্যন্ত নৌকা তার বাড়ির সামনেই ডুবন্ত অবস্থায় থাকবে- এমনকি কোন ভাড়াও দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করার জন্য উদ্ব্যত হয়।
অভিযোগে মনু মিয়া আরও উল্লেখ করেন, আমি টাকা চাইতে গেলে এলাকায় থাকতে পারব না বলে তারা আমাকে হুমকি দেয়। পরে তারা তাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়।
এ নিয়ে সালিশ হলেও বিষয়টি নিস্পত্তি হয়নি। মনু মিয়ার নৌকা ভাড়াসহ প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে নিরুপায় হয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল) মদন থানায় তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মনু মিয়া।
এ ব্যাপারে ফরিয়াদার হারুন ও আনোয়ার জানান, আল আমীনসহ আমরা চারজন মনু মিয়ার নৌকাটি দৈনিক বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে ভাড়া নেই। যে দিন যত বস্তা নেয়া হবে, সে দিন এই অনুযায়ী মনু মিয়াকে ভাড়া পরিশোধ করা হবে। তবে আল আমীন ব্যবসায়ের টাকা লেনদেন নিয়ে ঝামেলা করায় মনু মিয়ার নৌকাটি আমরা আটক রেখেছি। আল আমীন আমাদের টাকা পরিশোধ করলেই নৌকা দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফরিয়াদার আল আমীন জানান, তাদের সাথে আমার লেনদেন নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। নৌকা ভাড়া ঠিকমত পরিশোধ করলেই আমার নিকট যে টাকা আছে. আমি তা দিয়ে দেব।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।’
কেকে/এমএ