মোবাইল ফোনভিত্তিক অবৈধ অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) এবং দাদন ব্যবসার জালে পড়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় বহু স্বচ্ছল পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। সহজে অর্থ আয়ের প্রলোভনে জড়িয়ে পড়া মানুষ হারাচ্ছে সঞ্চয়, ভিটেমাটি, এমনকি পারিবারিক স্থিতিও।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উঠতি যুবক, দিনমজুর, দোকান কর্মচারী, অফিস সহকারী থেকে শুরু করে শিক্ষকরাও এতে জড়িয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কয়েকশ পরিবারে অশান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মোবাইল ক্যাসিনো। জুয়ায় টাকা হারানোর পর আসক্ত ব্যক্তিরা উচ্চ সুদে দাদন নিচ্ছেন, যা তাদের আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্যাসিনোর এজেন্টরাই আবার দাদন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা জুয়ায় আসক্তদের চিহ্নিত করে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ দেয় এবং পরে উচ্চ সুদের চাপে ফেলে দেন। ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে অনেকেই জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ মানসিক চাপে চরম সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান কর্মচারী জানান, তিনি মোবাইল জুয়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকা হারিয়েছেন। দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একাধিকবার ঋণ নিয়ে এখন চরম চাপে রয়েছেন।
এদিকে একটি ঘটনায় জানা গেছে, এক শিক্ষক নিজস্ব সমিতি থেকে ১৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে মামলার রায়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মোবাইল ক্যাসিনোর বিজ্ঞাপন বন্ধ এবং দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মোবাইল জুয়া ও দাদন ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
কেকে/ এমএস