নেত্রকোনার মদন উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও কান্নার রোল উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মগড়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে খয়রার হাওর, গনেশের হাওর, তলার হাওর, জালিয়ার হাওর, হাতির হাওর ও তিয়শ্রীর সামনের হাওরসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে প্রবেশ করেছে। এতে শত শত হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, অনেক জমির ধান এখনও পানির নিচে ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কেউ নৌকায়, কেউ সাঁতরে ধান সংগ্রহ করছেন। তবে রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকাতে না পেরে তাতে চারা গজানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে জমিতে পানি ও কাদা থাকায় ধান কাটার যন্ত্র (হারভেস্টার) ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি সমস্যার কারণে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অন্তত ৬২৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
তলার হাওরের কৃষক সফিয়ন ও শিপন বলেন, ‘৫ একর জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। হঠাৎ পানিতে সব তলিয়ে গেছে। কিছু ধান কেটে তুললেও খড় পানিতে নষ্ট হচ্ছে। এতে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেবে।’
চানগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘এ বছর বাম্পার ফলনের আশা ছিল। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ায় কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছি। কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
কেকে/ এমএস