২০১২ সালের ৭সেপ্টেম্বর দেশবরেণ্য কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত সর্বশেষ চলচিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ মুক্তি পায়। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা সিনেমায় হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখায় অবস্থিত প্রাচীন জমিদার বাড়ি, জমিদারদের জীবন-মান ও ঘেটু চরিত্র উঠে এসেছে।
গল্পে উঠে আসা প্রাচীন জমিদার বাড়িগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অবৈধ দখলবাজদের কবলে ইতিমধ্যে ১১টি জমিদার বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তবে এখনও ২টি জমিদার বাড়ি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। বর্তমানে সেই ২টি জমিদার বাড়ির দেয়ালের আস্তরণ ও পাটাতন খঁসে পড়েছে। তাছাড়া ঘেটুনাট মন্দির, বৈঠকখানাসহ সবই এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
জানা গেছে, হাওর অঞ্চল বেষ্টিত জলসূখায় মোগল শাসনামলে ১৩টি জমিদার বাড়ি গড়ে উঠেছিল। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর ১৩ জমিদার তাদের জমিদারিত্ব হারান এবং দেশ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপরই স্থানীয় কিছু লোকজন বিভিন্ন জমিদারের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কালের বিবর্তনে অনেক জমিদার বাড়ি ভেঙে দিয়ে নিজেদের বসতবাড়ি নির্মাণ করেন স্থানীয়রা। তবে কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও দুটি জমিদার বাড়ি দাড়িয়ে রয়েছে। তাছাড়া শান বাঁধানো পুকুর ঘাট,ঘেটুনাট মন্দির,আটচালা বৈঠকখানা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা বলছেন, ইতিহাস ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা ও ভবনগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় অবৈধ দখলবাজদের কবলে এগুলোও বিলীন হয়ে যাবে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে প্রাচীন জমিদার বাড়ি, ঘেটুনাট মন্দির ও বৈঠকখানাকে সাজানো হলে পর্যটকদের উপস্থিতি আরো বাঁড়বে। এতে ওই এলাকায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে।
স্থানীয় ৩ নম্বর জলসূখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজ আহম্মেদ খেলু মিয়া বলেন, ‘জমিদারদের ঐতিহাসিক সভা সমাবেশের আটচালা বৈঠকখানা এবং ঘেটুনাট মন্দির ঝড় তুফানে ভেঙে গেছে। দ্রুত এই জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ সংস্কার করা প্রয়োজন। আমি এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম রেজাউল করিম খোলা কাগজকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
কেকে/ এমএস