বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সিংগড়বুনিয়া/জিগিরমোল্লা এলাকার চামারাখালী খালের বাঁধ টেকসই সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
রোববার (৩ মে) চামারাখালী খালের বাঁধের পাশে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চামারাখালী খালে অতিরিক্ত জোয়ারের পানি প্রবেশের কারণে আশপাশের বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, দোকানপাট এবং সিংপুরনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া খালের পানির চাপে মিষ্টি পানির পুকুরগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপে স্থানীয় প্রায় ৫০টি পরিবারের রান্না ও স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা মারাত্বক ব্যহত হচ্ছে।
কৈশলগত ভাবে চামারাখালী খালের মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংযোগস্থলের প্রায় ৫০০মিটার দূরে খালটির উপর দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে সরকারি পিচডালা রাস্তা চলে গিয়েছে। ফলে খালটির উপরের অংশ ভরাট হয়ে গিয়েছে। ফলে বর্ষাকালে বা জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে খালটির উপরের অংশে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনগণ এই অনিয়ন্ত্রিত পানির হাত থেকে এলকাবাসীর জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক রাখতে খালটির উপরের অংশে বাধ দিয়ে রেখেছে।
তারা অভিযোগ করেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নির্দেশে খাল খননের যে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে তা এখন কৈশলগত কারণে বাস্তবায়ন কঠিন। খালটি অবমুক্ত বা খননের আগে পিচডালা রাস্তার উপর দিয়ে পানি সরবরাহের জন্য একটি কালভার্ট নির্মাণ না করে খালটি অবমুক্ত বা খনন করলে আগের মতো জোয়ারের পানি সহজেই গ্রামে প্রবেশ করবে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের জলাবদ্ধতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল খালটি অবমুক্ত করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—যা জনস্বার্থবিরোধী।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে গণস্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তারা খালটির বাঁধ টেকসইভাবে সংস্কার এবং স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কেকে/এজে