বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভায় লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকট চরম আকার ধারণ করায় পৌর এলাকার হাজারো মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পশুর ও মোংলা নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা সরাসরি পানযোগ্য নয়। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের খরায় পানি শোধনাগারের পুকুরগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার পানি প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় এক কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৯ লাখ লিটার। ফলে চাহিদার তুলনায় অনেক কম পানি পাচ্ছেন পৌরবাসী।”
তিনি আরও বলেন, “পানির জন্য প্রতিদিন ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য পানি সংগ্রহ করতেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে লবণাক্ত ও দূষিত পানি ব্যবহার করছেন—যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি বলেন, “পানির সংকট নিরসনে আমরা জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। পানি সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলেট সেন বলেন, “নিরাপদ পানির অভাবে ডায়রিয়া, চুলকানি ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সবাইকে পানি ফুটিয়ে বা পরিশোধন করে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সুপেয় পানির সংকট নিরসনে টেকসই উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কেকে/এজে