বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামে অবস্থিত মরহুম জমশের খাঁনের ঐতিহাসিক কবরটি স্থানীয়দের কাছে আজও রহস্য ও বিস্ময়ের নিদর্শন। প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরোনো এই কবর লোকমুখে ২২ হাত কবর নামে পরিচিত। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৌতূহলী মানুষ ছুটে আসেন এটি দেখতে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, জমশের খাঁন ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা দেহের অধিকারী। তার উচ্চতা ছিল প্রায় ১৮ হাত। মৃত্যুর পর তাকে সমান দৈর্ঘ্যের কবরেই সমাহিত করা হয়। কবরটি প্রচলিতভাবে ২২ হাত হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম পাইক জানিয়েছেন, এর আসল দৈর্ঘ্য ১৮ হাত।
লিখিত ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, জমশের খাঁন প্রায় ৫০০ বছর আগে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে যবসেন গ্রামে বসতি গড়েন। তিনি তখন আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামের তৎকালীন জমিদার মোহন মুন্সির প্যাদা বা লাঠিয়াল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত দক্ষতা ও শারীরিক শক্তিমত্তার কারণে মানুষ তাকে জমশের পাইক নামে ডাকত।
মৃত্যুর পরও তার বংশধররা পাইক পদবি ব্যবহার করে আসছেন। কবরটি স্থানীয়দের চোখে একটি ঐতিহাসিক সম্পদ হলেও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এটি এখনো অবহেলায় পড়ে আছে। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর, তথ্যফলক বা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা।
এলাকাবাসী মনে করেন, সঠিকভাবে পরিচর্যা ও প্রচার করা হলে কবরটি স্থানীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা কবরটি দেখে বিস্মিত হন।
অনেকেই বিশ্বাস করেন, যেমন বিশাল ছিল জমশের খাঁনের শরীর, তেমনি অসীম ছিল তার শক্তি ও কর্মদক্ষতা। রহস্য আর জনশ্রুতির মিলনস্থল হয়ে কবরটি আজও আগৈলঝাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক চিহ্ন হিসেবে টিকে আছে।
কেকে/ এমএস