মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার যুবক রবিউল ইসলাম (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা রেকর্ড করেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা পুলিশ।
ঘটনার তিন দিন পার হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছিল না বলে অভিযোগ ছিলো নিহতের স্বজনদের। শেষমেশ উপায়ন্তর না পেয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর শরণাপন্ন হন তারা। মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ও নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলারচর এলাকায় রবিউল ইসলামকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে একটি প্রাইভেটকারে গুম করার চেষ্টা চলছিল। পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠালেও মামলা গ্রহণে গড়িমসি শুরু করে।
নিহতের পিতা ছানোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে ঘরে আটকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা নিতে রাজি হয়নি। তারা বিষয়টিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল এবং সেই অনুযায়ী মামলা দিতে চাপ দিচ্ছিল।”
ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় শনিবার (৯ মে) মাগুরার হাটবাড়িয়া গ্রামে নিতাই রায় চৌধুরীর নিজ বাসভবনে যান নিহতের বাবা, স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ স্বজনরা। সেখানে মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
একপর্যায়ে মন্ত্রীর পা জড়িয়ে ধরে রবিউলের স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা আর্তনাদ করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। আমরা বিচার চাই।”
পরিবারটির এই করুণ আর্তনাদ শুনে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) ও বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর এই ফোনকল ও নির্দেশের পরই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। পরের দিন রোববার (১০ মে) বোয়ালমারী থানা পুলিশ রবিউলের বাবার দেওয়া অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, দীর্ঘ টালবাহানার পর মামলা হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
কেকে/এসএম