নাটোরের লালপুর উপজেলার এবি ইউনিয়নে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, আরএনসি প্রকল্পের আওতায় শালেশ্বর পাকা রাস্তা থেকে বড়মহাটি হাইস্কুল পর্যন্ত প্রায় ১৩০০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নতমানের ভিটি বালু, খোয়া ও পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম করা হচ্ছে। খোয়া ও বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে জনগণের অর্থ অপচয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেন্টু (৪৫) বলেন, ‘যে মানের কাজ হচ্ছে, তাতে দুই-চার মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে পড়বে বলে মনে হচ্ছে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’
অন্যদিকে পথচারী মো. মন্টু মিয়া (৩৮) বলেন, ‘কোটি টাকার প্রকল্প হলেও কাজে মানের কোনো ছাপ নেই। এভাবে চললে কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুভ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ফয়সাল আহমেদ শুভ বলেন,
‘আমি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। খারাপ যেটা বলছেন, সেটা সেলবেজ—যেটা সরকার আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আগের চেয়ারম্যান-মেম্বার ইট খারাপ দিয়েছিল, আমি সেটা ব্যবহার করছি।’
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আওলাদ হোসেন জানান, ইটের মান খারাপ থাকার বিষয়টি আমরা দেখেছি। ঠিকাদারকে তা পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সড়কের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হোক, যাতে জনগণ টেকসই অবকাঠামো সুবিধা পায়।
কেকে/ এমএস