দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গৃহবধূকে মারধর ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রশিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুড়িগ্রাম জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গ্রেপ্তারকৃত রশিদুল ইসলাম উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের বেলপুকুর পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত নোমান শাহ’র ছেলে।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকার সেন্টু দাস দিপু একজন দিনমজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত ১১ মার্চ বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি কাজে বাইরে ছিলেন। সে সময় তার পিতা-মাতাও বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সুযোগে রশিদুল ইসলাম তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়িতে একা থাকা গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধরে ফেলে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্ত গৃহবধূর পরনের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলে তাকে বিবস্ত্র করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী প্রাণপণ আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে আহত অবস্থায় গৃহবধূকে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল, যার কারণে ভুক্তভোগীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। পরে স্ত্রীর চিকিৎসা ও পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর খানসামা থানা পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। এরপর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে গেলে তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের সহযোগিতায় কুড়িগ্রাম জেলা থেকে রশিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সরদার জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়। মামলার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও র্যাবের সহযোগিতায় কুড়িগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
কেকে/এলএ