বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজ নির্মিত হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে। প্রকল্প অনুমোদনের খবরে আনন্দে ভাসছেন রাজবাড়ীবাসী।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘একনেকে পদ্মা ব্যারাজ অনুমোদন হলো। অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, অভিনন্দন সবাইকে।’
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এটিকে ‘পদ্মাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া ও সালাম মণ্ডল বলেন, ‘ফারাক্কার কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা পানির সংকটে ভুগি। পদ্মা ব্যারাজ হলে কৃষি ও জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে। দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতেই এই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যারাজটিতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, একটি নেভিগেশন লক, দুটি ফিশ পাস এবং ব্যারাজের ওপর দিয়ে রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশজুড়ে চারটি বিভাগের ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রথম ধাপে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯ জেলার ১২০ উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকার বেশি। তবে ঝুঁকি ও অর্থায়ন বিবেচনায় এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেকে/ এমএস