ঠাকুরগাঁওয়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন স্বামী। নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আজহারুল ইসলাম।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কের একটি রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সিংপাড়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আজহারুল ইসলাম নিজেকে ঠাকুরগাঁও সদরের সালন্দর সিংপাড়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বলে পরিচয় দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম জানান, সালন্দর এলাকার সোলেমান আলীর মেয়ে লাভলী বেগমের সাথে ১৯৯৯ সালের আগস্টে বিয়ে হয় তার। এরপরে তাদের দুইটি সন্তান হয়। বিয়ের পর থেকেই লাভলী বেগম বিভিন্ন উছিলায় আজহারুল ইসলামের পৈতৃক জমি তার নামে লিখে দিতে বলে। আজহারুল ইসলাম প্রথমে এগুলোকে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে খুনসুটি মনে করলেও কিছু দিন পর তার সে ভুল ভাঙ্গে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে লাভলীর জেদ বাড়তে থাকে এবং কাঙ্খিত জমির পরিমাণও বাড়িয়ে বলতে থাকেন, যা তিনি আজহারুল ইসলামের নিকট থেকে লিখে নিতে চাইতেন। সময়ের সাথে সাথে আজহারুল ইসলামের ওপর বাড়তে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একপর্যায়ে আজহারুল ইসলাম গত ২৬ এপ্রিল দেশের প্রচলিত আইনে লাভলীকে তালাক দেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) লাভলী ও তার ভাই সাদ্দাম ও ইউনুসের সহযোগীতায় ৩০-৩৫ জনের দল আজহারুল ইসলাম ও তার পরিবার ও মাদ্রাসায় হামলা চালায়। মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। আজহারুল ইসলাম ও তার ভাই-বোনেরা হামলায় আহত হলে তারা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে আজহারুল ইসলাম একদিকে যেমন তার বাসায় যেতে পারছেন না, অপরদিকে মাদ্রাসা তালাবদ্ধ থাকায় পাঠ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
তাই, দ্রুতই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আজহারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আজহারুল ইসলামের ভাই আব্দুল আলিম ও জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ