গ্রীষ্মকাল মানেই নানা রসালো ফলের সমাহার। আর এই সময়ের জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম জাম। টক-মিষ্টি স্বাদের ছোট্ট এই ফল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। ভিটামিন সি, আয়রন, পটাসিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ নানা উপকারী উপাদানে সমৃদ্ধ জাম শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে জাম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি বৃদ্ধি, রক্ত পরিশোধন এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়তা করে। জেনে নিন জামের উল্লেখযোগ্য কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা—
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
জামে কম গ্লাইসেমিক সূচক থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা ‘জাম্বলিন’ নামক উপাদান স্টার্চকে দ্রুত চিনিতে রূপান্তর হতে বাধা দেয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী ফল হিসেবে বিবেচিত।
শরীর ঠান্ডা রাখে
গরমের সময় শরীর আর্দ্র ও ঠান্ডা রাখতে জাম কার্যকর। এতে প্রচুর পানি, মিনারেল, ফসফরাস ও আয়োডিন রয়েছে। তাই গরমে ক্লান্তি দূর করতে জাম দিয়ে শরবত বা স্মুদি খাওয়া যেতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
জামে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও ভিটামিন সি। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
হাড় ও দাঁত মজবুত করে
আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকায় জাম হাড় ও দাঁত শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, জামে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরে অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রভাব তৈরি করতে পারে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।
রক্ত পরিশোধন ও সংক্রমণ রোধে কার্যকর
জামে থাকা আয়রন ও ভিটামিন সি রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে এবং হিমোগ্লোবিন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফেকটিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।
ত্বক ও চোখের যত্নে উপকারী
নিয়মিত জাম খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়, ফলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা কমতে পারে। পাশাপাশি এটি চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখে
জামে থাকা পটাসিয়াম ও ফসফরাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
হজমশক্তি বাড়ায়
জামে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, মৌসুমি ফল হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে জাম খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত খাওয়া বা অসতর্কভাবে খেলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিমিত পরিমাণে জাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কেকে/ এমএস