জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার এক পরীক্ষার্থী। একদিকে জন্মদাত্রী মায়ের চিরবিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই। সব শোক বুকে চেপে বাড়িতে মায়ের মরদেহ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোরশেদ প্রামানিক নামের এক কিশোর।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে মায়ের মৃত্যুর পর আজ রোববার (১৭ মে) সকালে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। মোরশেদের এই অদম্য মানসিকতা ও দায়িত্ববোধ উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ পুরো এলাকায় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের মাটিহাঁস গ্রামের মহসিন আলী প্রামানিকের ছেলে মোরশেদ প্রামানিক। সে বিনাই জসীমউদ্দীন মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনের ছাত্র। তার মা আছমা বিবি পারুল (৪৩) দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে যখন শোকের মাতম চলছে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে অশ্রুসজল চোখে পরীক্ষার হলের উদ্দেশে রওনা হয় মোরশেদ। সকাল ৯টায় নির্ধারিত সময়ে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রের হল সুপার মো. আবু তাহের আকন্দ জানান, মোরশেদের চোখেমুখে মাকে হারানোর গভীর বেদনার ছাপ ছিল। তবে সে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরীক্ষা শেষ করেছে। কঠিন এই সময়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের মানসিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখে মোরশেদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও স্থানীয়দের মাঝে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জীবনের এত বড় শোকের মধ্যেও মোরশেদ যে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই বিরল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোরশেদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আজ দুপুরে জানাজা শেষে তার মায়ের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কেকে/এলএ