মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় সরকারিভাবে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩৪ কেজি টিসিবির চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় হাতেনাতে জব্দের ঘটনায় অভিযুক্ত ডিলারকে জরিমানার পাশাপাশি তার ডিলারশিপ কেন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের নাগড়া এলাকার হাটবাড়িয়া বাজারে ‘বাবু এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম বাবু সরকারি চাল পাচারের সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এই নিয়ে ওইদিনই জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজে ‘মাগুরায় টিসিবির ৪৩৪ কেজি চাল জব্দ, ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে পরদিনই অর্থাৎ ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহ. শাহনুর জামান ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে চাল বিক্রির অপরাধে অভিযুক্ত ডিলার রফিকুল ইসলাম বাবুকে ১৫,০০০ (পনেরো হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে উদ্ধারকৃত ৪৩৪ কেজি সরকারি চাল জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের জরিমানার বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। টিসিবি ক্যাম্প অফিস ঝিনাইদহর উপ-পরিচালক ও অফিস প্রধান আকরাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিলার বাবু এন্টারপ্রাইজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
টিসিবির নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ডিলারশিপ নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫-এর শর্ত ১০-এর ‘ঞ’ ধারা অনুযায়ী, কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে অভিযোগ উত্থাপিত ও প্রমাণিত হলে তা ডিলারশিপ বাতিলযোগ্য অপরাধ।
এমতাবস্থায়, সরকারি পণ্য কালোবাজারে বিক্রির দায়ে কেন তার ডিলারশিপের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—তা নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ. শাহনুর জামান জানান, সরকারি মালামাল নিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলারকে জরিমানা করেছি এবং চাল জব্দ করেছি। টিসিবি কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কার্ডধারীরা দ্রুত সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে এই অসাধু ডিলারের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করে সেখানে সৎ ও যোগ্য ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
কেকে/ এমএস