পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জেল-জরিমানা করেও থামছে না নকল দুধ তৈরির কারবার। অভিযানের কয়েকদিন পরই পুনরায় কারখানা চালু করে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৮ মে) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রশিদ (২৩) নামে এক দুধ ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ১০০ লিটার কেমিক্যাল জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আযম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রশিদ ভবানীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের লিটন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে সিলিং সেন্টার বসিয়ে দুধের ব্যবসা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সয়াবিন তেল, কস্টিক সোডা ও চিনি মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শারমিন আক্তার, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির ঘটনা নতুন নয়। গত ৯ মে উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ ও কেমিক্যাল জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় কারখানা মালিক সাখাওয়াতকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং তার সহযোগী সুমন আলীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে শিংগাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে একই অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরেও একই অপরাধে তাকে জরিমানা করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার চর-ভাঙ্গুড়া গ্রামের সঞ্জয় কুমার ও কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশারও দীর্ঘদিন ধরে এ কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও একাধিকবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গত বছর নকল দুধ তৈরির সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি সাংবাদিক মানিক হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম লিমা বলেন, ‘নকল দুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে ক্যানসার, বিকলাঙ্গতা, শিশুদের বিকাশজনিত সমস্যা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কেকে/ এমএস