অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় নীলফামারী থেকে আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাঙ্গির ছলেয়াপাড়া এলাকার মৃত কছিমুদ্দিনের ছেলে মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও বকসাপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)।
জাবেদুল ইসলাম পেশায় বিকাশের ডিএসও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ২২ ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্তে এ চাঞ্চল্যকর প্রতারণার তথ্য উঠে আসে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ সামাল অভিযোগ করেন, অস্ট্রেলিয়ার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বাদী ও তার স্বজনদের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে প্রতারকরা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন এবং সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) মো. শাহাদাত হোসেন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বিকাশ নম্বরগুলোর কেওয়াইসি ও লেনদেন বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে গত রোববার নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আসামি খাইরুল ইসলামকে মূল পলাতক আসামি ‘প্রাণ ইসলাম’ একটি মোবাইল ফোন কিনে দিয়ে প্রতারণামূলক ভিডিও তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়। পরে ‘আরিফ মন্ডল’ নামে ভুয়া পরিচয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। ভিডিওতে নিজেকে সৌদি প্রবাসী দাবি করে অল্প খরচে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সফলতার গল্প বলা হতো। এসব ভিডিও ফেসবুকে বুস্ট করে প্রবাসী ও সৌদি প্রবাসীদের টার্গেট করা হতো। এ কাজে অংশ নেওয়ার জন্য খাইরুলকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
অপর আসামি জাবেদুল ইসলাম নিজের পদের অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ আউট ও লেয়ারিংয়ের কাজে সহায়তা করতেন। এ জন্য তিনি প্রতি লাখ টাকায় ৫০০ টাকা কমিশন নিতেন।
তদন্তে জানা গেছে, গত চার মাসে চক্রটি প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে।
পিবিআই আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। চক্রের অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/এমএ