ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে সড়ক দখল করে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর হাট পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদ থেকে মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন মাঠে অস্থায়ী কুরবানির পশুর হাট পরিচালনার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত স্থানে হাট না বসিয়ে ইজারাদার মোটবী ভোরবাজার-দাইয়াবিবি সড়ক দখল করে পশুর হাট পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের দুই পাশে গরু-ছাগল উঠিয়ে রাখায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহনসহ সাধারণ পথচারীরা।
এ সড়কটি ফেনী সদর উপজেলা থেকে ছাগলনাইয়া উপজেলায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়কের ওপর পশুর হাট বসায় কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেককে কর্মস্থলে যেতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, দীর্ঘ বছর ধরে এখানেই পশুর হাট হয়ে আসছে। তাই এবারও এখানে হাট বসানো হয়েছে। সড়কের ওপর হাট হলেও কোনো জনদুর্ভোগ হচ্ছে না। আমরা প্রতিদিন সকালে এই হাট পরিচালনা করছি।
এদিকে, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সরকার ইতোমধ্যে সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের ওপর পশুর হাট না বসাতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কোনোভাবেই সড়ক বা মহাসড়ক দখল করে পশুর হাট বসানো যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হাট পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা রয়েছে।
জানা যায়, এ বিষয়ে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
এ সময় তিনি জানান, সড়কে কোনোভাবেই পশুর হাট বসানোর নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়ক থেকে অস্থায়ী পশুর হাট সরিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হোক।
কেকে/এলএ