সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকটে ভুগছে। ফলে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৪৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৭ জন। শূন্য রয়েছে ১১৯টি পদ। সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪২টি হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৬ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ২৬টি চিকিৎসকের পদ। নার্সের ৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯ জন। শূন্য রয়েছে ২২টি পদ। এছাড়া মিডওয়াইফের ৯টি পদের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন ৭ জন। শূন্য রয়েছে ২টি পদ। অন্যান্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১০৩টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৬২ জন। এসব পদে শূন্য রয়েছে ৪১টি। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ২৭টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১ জন। এ পদে শূন্য রয়েছে ২৬টি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক বিভাগে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বাড়ছে। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী হাসান বলেন, “অসুস্থ হয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। কিন্তু এখানে চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনারের সংকট রয়েছে। প্রতিদিনই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”
এক রোগীর অভিভাবক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই বলে শুনতে হয়। এত বড় হাসপাতাল নির্মাণ হলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় শহর সিলেটে চলে যান।”
পৌর এলাকার বাসিন্দা সাজিয়া বেগম বলেন, “হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ দেখলে মনে হয় সেখানে কর্মচারীর সংকট রয়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশা করে। কিন্তু হাসপাতালের বিভিন্ন কোণায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কৃপেশ দাশ বলেন, “চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন হলে আমাদের ওপর চাপ কমবে এবং রোগীরা সহজে মানসম্মত সেবা পাবেন।” তিনি আরও বলেন, “লোকবল সংকটের বিষয়টি আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি।”
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, “স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী, সর্বজনীন ও বৈষম্যহীন করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমানো, শূন্যপদে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকবল সংকট নিয়ে আলোচনা করেছি। যথাযথ জায়গায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। এই শূন্য পদগুলো যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব। সরকারও চেষ্টা করবে, আমিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই শূন্য পদগুলো যত দ্রুত পূরণ হবে, সেবা নিতে আসা মানুষের কষ্ট তত কমবে এবং তারা আরও বেশি সেবা পাবেন। এটি আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সফল হব।”
কেকে/এলএ