ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে বিয়ের আয়োজন পণ্ড, হামলা-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার (৩১ মে) সকালে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ছবি : প্রতিনিধি
ভুক্তভোগীরা জানান, চরআলগী গ্রামের ১৫-২০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া এলাকার শতাধিক খড়ের গাদার মধ্যে অর্ধশতাধিক গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা বিয়েবাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার, অতিথিদের বসার স্থান ও আসবাবপত্র তছনছ করে। ভাঙচুর করা হয় থালা-বাসনও। এতে নাজিম উদ্দিনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, “বিনা কারণে এমন ঘটনার পর আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। বর আসার আগেই এমন ঘটনা সবাইকে হতবাক করেছে। আমরা এর বিচার চাই।”
চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা কেনান বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি।”
এদিকে মরিচারচর গ্রামের ইব্রাহিম খলিল, রোমান, হৃদয়, শিপন ও তুহিনসহ অন্তত ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঈদের দিন বিকালে উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বটতলায় মরিচারচর গ্রামের তুহিন (২০) তার বোন জিনু আক্তারকে নিয়ে ঘুরতে যান। এ সময় চরআলগী গ্রামের কয়েকজন কিশোর জিনু আক্তারকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করে। এতে তুহিন বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তাদের দাবি, পরে শনিবার (৩০ মে) বিকালে মরিচারচর গ্রামের রাব্বি ও রবিন বাজারে গেলে চরআলগী গ্রামের কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা ইব্রাহিম খলিলের দোকানে আশ্রয় নেন। বিষয়টি সমাধানের কথা বলে শনিবার রাত ৯টার দিকে ইব্রাহিমকে ডেকে নিয়ে চরআলগী গ্রামে মারধর করা হয়। এর জের ধরেই রোববার সকালে মরিচারচর গ্রামের লোকজন চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়।
তবে ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, বিয়েবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়টি সাজানো নাটক। তারা নিজেরাই এসব করে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুই পক্ষের ইব্রাহিম খলিল, তুহিন, হৃদয়, মঞ্জুরুল হক ও সাগর মিয়াসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, “ঈদের দিন বিকালে উচাখিলার বটতলায় ফুচকার অর্ডার দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার সূত্র ধরে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়। এর জেরে আজ চরআলগী গ্রামের ৩০-৪০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’