বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বর্তমান সরকার কোনো দলের নয় সবার : প্রধানমন্ত্রী      হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৪ জনের মৃত্যু      ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ বললেন আমির হামজা      সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী      চালের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী      বিআরটিএর কর আদায়ে চুক্তির ব্যয় বাড়ল ২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা      
দেশজুড়ে
কালাইয়ে কিস্তি দিতে না পারায় গৃহবধূকে আটকে রাখার অভিযোগ
মো. মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট)
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে এক নারীকে বাড়ি থেকে তুলে এনে কার্যালয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আটক রেখে মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে জেআরডিএম নামের এনজিওর বিরুদ্ধে। 

রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাতে কালাই পৌরশহরে এনজিওপাড়াতে এ ঘটে। 

রাতেই ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ওই এনজিও কার্যালয়ে গেলে তারা প্রথমে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে নিজেরা ভুল স্বীকার করে ওই নারীকে ছেড়ে দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই নারী তার ছেলের সাথে বাড়িতে ফিরে যান। 

জানা যায়, কালাই পৌরশহরের আঁওড়া কালিমহুর মহল্লার দিনমজুর মো. বাবলু সরকারের স্ত্রী মোছা. আলপনা বেগম পাঁচ বছর ধরে জেআরডিএমের কালাই শাখা থেকে কখনও সাপ্তাহিক আবার কখন মাসিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধও করে আসছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাসিক কিস্তিতে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। তাতে ওই নারীকে মাসিক কিস্তি দিতে হয় সাড়ে ৮ হাজার টাকা। ঋণ নেওয়ার পর নিয়মিত পাঁচটি কিস্তি তিনি পরিশোধও করেছেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে তিনি কিস্তির টাকা দিতে পারেননি। এরইমধ্যে ঈদুল আজহায় বন্ধ হয় অফিস-আদালত। বকেয়া দুই মাসের কিস্তির টাকা নিতে রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় বন্ধের দিনে ওই এনজিওর মাঠকর্মী জাহানারা বেগম ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। এ সময় ভুক্তভোগীর ছেলে আজিজার রহমান তার নিকট আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় চান। ভুক্তভোগীর ছেলের কথায় কর্ণপাত না করে জাহানারা বেগম কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে অফিসে এনে আটকে রাখেন। বিকাল ৫ টা ২৮ মিনিটে ওই এনজিওর এরিয়া ব্যবস্থাপক মো. আরমান হোসেন সরকার ভুক্তভোগী আলপনা বেগমের ছেলে আজিজার রহমানের মোবাইলে কল করে জানান, কিস্তির টাকা অফিসে জমা দিয়ে তোমার মাকে নিয়ে যাও। মাকে উদ্ধার করতে ছেলে টাকার জন্য ছুটাছুটি করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হয়। 

আজিজার রহমান বলেন, ‘আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। গত দুই মাসের বেতন পাইনি। এমনকি ঈদুল আজহার বোনাসও পাইনি। সে কারণে কিস্তির টাকা দিতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল রোববার যখন ওরা মাকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন, তখন আমি ২-৩ দিনের সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেননি। ভেবেছিলাম হয়তো অফিসে নিয়ে গিয়ে তারা কথা বলে ছেড়ে দিবে। যখন ওরা আমাকে কল করে বলেছে, টাকা দিয়ে তোমার মাকে নিয়ে যাও, তখন থেকে আমি অনেকের কাছে গিয়েছি, টাকা পাইনি। বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজনসহ অন্যদের বিষয়টি জানাই। তারা আমার মাকে আটকে রেখে দীর্ঘ ৭ ঘন্টা ধরে মানসিক নির্যাতন করেছে। আজ টাকা না দিলে তার নামে মামলা দিয়ে পুলিশে দিবে বলেও জানান এনজিওর লোকজন।’  

জাহানারা বেগম বলেন, ‘টাকার জন্য অনেকবার তার বাড়িতে গিয়েছি। অফিসে চাপ থাকায় আমি তাকে ডেকে এনে বড় স্যারকে অবগত করেছি। টাকা দিলে আমি নিজেই তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসতাম। তার আগে আপনারা চলে আসছেন।’

বন্ধের দিনে কেন কিস্তি নিতে গেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাস শেষ, টার্গেট পূরণ করতে বন্ধ-ছুটি কিছুই মানা হয় না। এনজিওতে চাকুরি করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন।’

আলপনা বেগম বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে আমি তাদের এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কোনো দিন কিস্তি বকেয়া রাখিনি। গত দুই মাস ধরে ছেলের বেতন বন্ধ আছে, তাই কিস্তি দিতে পারিনি। এই জন্য ওরা আমাকে ধরে এনে অফিস ঘরে আটকে রেখে টাকার জন্য বারবার ছেলেকে কল দিচ্ছে। আমাকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেছে। টাকা না দিলে আমাকে পুলিশে দিবে। ভয়ে আমি ছেলেকে বলেছি, টাকার ব্যবস্থা করে আমাকে নিয়ে যা বাবা। এরিয়া স্যার আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। যা সহ্য করার মত না। মনে হচ্ছিল তখন আমি আত্মহত্যা করি। কিন্তু সবাই ছিল, তাই আত্মহত্যা করতে পারিনি ‘

জেআরডিএমের শাখা ব্যবস্থাপক আবু রায়হান বলেন, ‘আসলে আমি এসবের কিছুই জানি না। যা হওয়া হয়েছে, বাদ দেন ভাই। নিউজ করার দরকার নেই। আসলে বন্ধের দিনে তাকে নিয়ে আসা ঠিক হয়নি। তবে আমরা নিজেরাই তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতাম।’

মো. আরমান হোসেন সরকার বলেন, ‘তাকে নিয়ে আসছিতো কি হয়েছে, টাকা দিলেই ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরাও কমপক্ষে গত দুই মাসে ১৫০ বারের অধিক তার বাড়িতে গিয়েছি, কই তখনতো আপনারা দেখেননি। আজ ঠিকই আসছেন। কয়েক কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে, হেড অফিস থেকে বারবার তাগাদা দিচ্ছে। আমরা বড় বিপদে আছি। পেটের দায়ে চাকরি করছি।’

বন্ধের দিনে কিস্তি আদায় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনজিওতে বন্ধ বা ছুটির দিন বলতে কোনো নিয়ম নেই। ওয়ান ওয়ে সার্ভিস।’

কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন, ‘ঋণ দেওয়ার যেমন নিয়ম আছে, আদায়েরও কিছু নিয়ম আছে। আদায় করতে না পারলে অবশ্যই আইনের সহায়তা নিতে পারতো। কিন্তু তা না করে কেন একজন নারীকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আটকে রাখা হলো। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে অবশ্যই ওই এনজিওর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কালাই   কিস্তি দিতে না পারা   গৃহবধূকে আটকে রাখা   এনজিও   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close