গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় চার নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতরা হলেন উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রামের মো. নুরুন্নবী মিয়ার স্ত্রী মোছা. নুরিনা বেগম (২৫), দহবন্দ ইউনিয়নের মৃত বাবর আলীর ছেলে মো. আতোয়ার রহমান (৫০), একই ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের মো. আয়নাল হকের স্ত্রী মোছা. জয়নব বেগম (৪৫), জরমনদী গ্রামের জয় কৃষ্ণের স্ত্রী শ্রীমতি উষা রানী (৫০) ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মো. মুরাদ মিয়ার স্ত্রী মোছা. সোনালী বেগম (২৫)।
মঙ্গলবার বিকালের দিকে হঠাৎ করেই জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতের বিকট শব্দ ও ঝড়ো বৃষ্টিতে মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বজ্রপাতের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় স্বজন ও স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বাকি চারজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, ‘বজ্রপাতে আহত হয়ে চার নারীসহ মোট পাঁচজন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চারজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।’
এদিকে. বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদীর পাড় ও উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগামী কয়েক দিন ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রপাত, বজ্রবৃষ্টি ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বজ্রপাতের সময় জনসাধারণকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদীর পাড় ও বড় গাছের নিচে অবস্থান করা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়াই নিরাপদ।’
কেকে/এমএ