“মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং দেশের অমূল্য সম্পদ। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করবে, তাদের বাসস্থান হবে পাকিস্তান”—এ মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, “আমি একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।”
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নান্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের কাছে মন্ত্রী হিসেবে থাকতে চাই না, বরং একজন সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে থাকতে চাই। জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চাই।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নেতৃত্বের প্রকৃত শক্তি পদ-পদবিতে নয়, বরং জনগণের আস্থা ও ভালোবাসায় নিহিত। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা কোনো দলের নয়, তারা সমগ্র জাতির সম্পদ। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তাই সবাইকে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।”
তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।”
পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে এমন কোনো কাজ না করারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান এবং তার নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশারফ হোসেন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কেকে/এজে