পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নৌপুলিশের সহযোগিতায় পিকনিকে আসা ১৯ জনকে তেঁতুলিয়া নদীর উত্তাল ঢেউয়ের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকালে দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীর তীরবর্তী বীজ বর্ধন খামার এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতরা হলেন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ গ্রামের মো. মুসলিমের ছেলে মমিন (২৫), মো.শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. ইয়ামিন (১৯), মো. তছির উদ্দিনের দুই ছেলে মো. রুবেল (২৪) ও মো. পারভেজ (২১), মো. কবিরের ছেলে মো. ফয়সাল (১৯), মো. আকবরের ছেলে মো. সবুজ (১৮), মো. নুর নবীর দুই ছেলে মো. সিপন (১৫) ও মো. নেহাদ (১৮), মো. নুর হোসেনের ছেলে মো. সাকিল (১৪), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. জহির (১৫), মো. আলমগীরের মো. আরিফ (১৮), মো. নুর মোহাম্মাদের ছেলে মো. তামিম (১৯), মো. নুর ইসলামের ছেলে মো. রিপন (১৯), মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. হ্নদয় (১৬) মো. জুয়েলের ছেলে মো. সোহেল (১৭), মো. শাহে আলমের ছেলে মো. সালমান (১৯), মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. মারুফ (১৬), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. রুবেল (২১), মো. মহামুদ আলমের ছেলে মো. সবুজ (২১)।
নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ গ্রামের কয়েকজন বন্ধু দশমিনা উপজেলার (বীজ বর্ধন খামার) বর্তমান বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে পিকনিক করার জন্য আসে। পিকনিক শেষে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলিয়া নদীর মাঝখানে উত্তাল ঢেউয়ের কারনে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। তখন পিকনিকে আসা লোক জন জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। তারা তাদের জীবন বাঁচাতে ৯৯৯ এ ফোন করে। দশমিনা নৌপুলিশ ৯৯৯ ফোন পেয়ে তাদের অত্যাধুনিক স্পিডবোট নিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়।
পিকনিকে আসা মো. ইয়ামিন, পারভেজ ও সোহেল জানান, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে দশমিনা উপজেলার বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে পিকনিকে যাই। সকালে আবহাওয়া ভালো ও নদী স্বাভাবিক ছিলো। বিকালে পিকনিক শেষে যাওয়ার সময় হঠাৎ নদী উত্তাল হয়ে যায়। আমাদের ট্রলারটি নদীর মাঝখানে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। নদীর তীব্র ঢেউ ট্রলাটি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমি ৯৯৯ এ ফোন করলে দশমিনা নৌপুলিশের দল একটি স্পিডবোট দিয়ে আমাদের নদীর তীরে পৌঁছে দেয়। নৌপুলিশের সহযোগিতা না পেলে হয়তো আমরা সকলে জীবন হারাতাম।
দশমিনা নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. ফেরদৌস জানান, বিকাল ৪টার সময় ৯৯৯ ফোন কল আসে, উপজেলার বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের পাশে তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েজন পিকনিক শেষে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলিয়া নদীর মাঝখানে তাদের ট্রলার বিকল হয়ে জীবন ঝুঁকিতে আছে। খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের টিম তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেই।’
কেকে/এজে