কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে মসজিদের পেছনের জানালার গ্লাস খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ৭৬টি পানির টেপকল এবং ৮টি এসির বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরি করে নিয়ে গেছে।
বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে বাজিতপুর উপজেলার মডেল মসজিদে ট ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে চোরচক্র মসজিদের পেছনের অংশের একটি জানালার গ্লাস কৌশলে খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা মসজিদের বিভিন্ন অজুখানায় স্থাপিত ৭৬টি পানির টেপকল খুলে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে মসজিদে স্থাপিত ৮টি এসির বিদ্যুৎ সংযোগের তার কেটে নিয়ে যায়। ফলে মসজিদের অজু ব্যবস্থা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বাজিতপুর উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আবু বক্কর জানান, সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা মসজিদে এসে অজুখানার অধিকাংশ টেপকল এবং এসির সংযোগ তার না দেখে বিষয়টি টের পান। পরে পুরো মসজিদ পরিদর্শন করে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি বলেন, “দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে মসজিদে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় মুসল্লি ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এবং প্রতিদিন শত শত মুসল্লির আগমনে মুখর এই মডেল মসজিদে এমন চুরির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে হবে।
মসজিদের মুসল্লি আলাল হোসেরসহ কয়েকজন জানান, অজুখানার টেপকলগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় নামাজ আদায়ের আগে অজু করতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া এসির সংযোগ তার কেটে নেওয়ায় মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে, যা গরমের এই সময়ে মুসল্লিদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মডেল মসজিদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, “চুরির ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/ এমএস