নিরাপদ আদাবর-মোহাম্মদপুরের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।
এসময় বক্তারা বলেন, “আমরা আর এই এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা দেখতে চাই না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বুধবার (১৭ জুন) আদাবর থানার সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি আদাবর এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনার সময় ছিনতাইকারীদের হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণ আহত হন।
এ ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এসব অপরাধ মোকাবিলার তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ও আধুনিক লজিস্টিকসের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো ও অকার্যকর আইনের কারণে অনেক অপরাধী দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সংশোধনের পরিবর্তে কারাগার অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আরও অপরাধপ্রবণ করে তুলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাস দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
সংগঠনের উদ্যোক্তা পারভেজ হাসান সুমন বলেন, “এই এলাকায় প্রতিনিয়ত একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর দায় কে নেবে? যেখানে পুলিশ কর্মকর্তারাও নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিতে, তা সহজেই অনুমেয়। সম্প্রতি আদাবর থানার ওসি ও একজন এসআই অভিযানে গিয়ে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন এবং কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাই এ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর অবস্থান এবং সন্ত্রাস নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”
কেকে/এলএ