‘গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ ও জনগণের ক্ষতি করলে সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না’—বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যারা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আন্দোলন খেলা খেলেছিল, ষড়যন্ত্র করেছিল; সেই তারা এখন বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তারা কি জনগণের পক্ষে না বিপক্ষে কথা বলে?বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার চার কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চায়। তিন কোটি কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড দিতে চায়। বর্তমান সরকার প্রাইমারির শিক্ষার্থীদের কাছে স্কুলের পোশাক ও স্কুলব্যাগ দিতে চায়। মসজিদ-মাদরাসা বা অন্য ধর্মের গুরুদের ন্যূনতম একটা সম্মানী দিতে চায়। খাল পুণঃখনন করতে চায়, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করতে চায়।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে, যাতে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের ভেতরে থাকে। এই যে কাজগুলোর কথা বললাম, যারা বলে এই সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের পক্ষে না বিপক্ষে কথা বলে? যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে?’প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছর বিএনপি দেশ পরিচালনা করবে। তাহলে আমার প্রশ্ন— যারা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। মনে আছে তো এরা একাত্তর সালে কী করেছিল? ছিয়াশি সালে কী করেছিল? গত ১২ বছর তাদেরকে কোথাও দেখিনি। যদি কোথাও কেউ মারা যায়, দেখা গেছে ছাত্রদলের কর্মী। কোথাও গুম হলে সে ছিল যুবদলের কর্মী। মানুষ বিএনপিকে বলে দিয়েছে, তোমার দেশ গঠন করো আগামী পাঁচ বছরের জন্য।’
বাংলাদেশে এখন বাক বা ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই আমরা কাজ করতে পারছি। আমরা ১২ তারিখের নির্বাচনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পূরণ না হলে জনগণের ক্ষতি হবে। আমরা ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ছিলাম, তবে ১৭ তারিখ থেকে আমরা প্রত্যেক মানুষের সরকার। যারা আমাদেরকে ভোট দিয়েছে অথবা যারা ভোট দেয়নি; আমরা সবার সরকার।’দুপুরে মৌলভীবাজার পৌঁছে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ৮টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে ফেরার কথা রয়েছে।তৃতীয় ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
টাকা পাচারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে। আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না।’
এসময় আগামী এক বছরে ৪০ লাখ পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড এবং একইভাবে ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ারও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম প্রমুখ।
এর আগে সকালে বিমানে করে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে বিশেষ বাসে করে সড়কপথে দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া মাঠে আসেন তিনি। তার আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো মৌলভীবাজার উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।