প্রথম পাতা প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে দেশে ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
প্রযুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে দেশে ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

শেয়ার
শেয়ার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবটিকস ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে দেশে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

ভবিষ্যতের শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবটিকস ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে দেশে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও সেই কাজের জন্য দেশের তরুণরা প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। যে নতুন কাজ সৃষ্টি হবে, তার জন্য আমাদের যুবসমাজ প্রস্তুত নয় বলে আশঙ্কা করছি।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক বলেন, এখন শুধু শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার মান ও ফলাফল নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগে আমরা শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করেছি। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিয়ে আন্দোলন করার। শিক্ষার্থী স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, কিন্তু সে মান নিয়ে বের হচ্ছে কিনা সেটাই এখন বড় বিষয়।

তিনি জানান, নতুন সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি জোট গড়ে শিক্ষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। শুধু কারিগরি মতামত দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়; এজন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

দেবপ্রিয় আরও বলেন, শিক্ষা আন্দোলনকে যদি রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা না যায়, তাহলে আমরা যে পরিবর্তন চাই তা অর্জন করা কঠিন হবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকে পরবর্তী ধাপে যেতে হলে মানসম্পন্ন শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার মানোন্নয়ন না হলে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা খাত নিয়ে ছয় ধরনের প্রচলিত বয়ান বা ব্যাখ্যা রয়েছে, যেগুলোকে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের গবেষণায় চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বরাদ্দের পরিমাণ ও তার কার্যকর ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

দেবপ্রিয় আরও বলেন, আমরা অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে প্রাধিকার বুঝি বরাদ্দ দিয়ে। বরাদ্দ কত দেওয়া হচ্ছে, কোথায় দেওয়া হচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, শিক্ষকদের মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু উপবৃত্তি দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষাব্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয়। একটি পরিবারের আরও নানা ধরনের ব্যয় রয়েছে, যেগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ।

শেয়ার
সম্পর্কিত লেখা

ওপেনএআইতে মালিকানা নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ইঙ্গিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের সাফল্যে সাধারণ মানুষকে অংশীদার করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা...

চীনকে ঠেকাতে এআই নীতিমালা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হতে পারে...

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই করে আর্থিক পরামর্শ দেবে চ্যাটজিপিটি

চ্যাটজিপিটিতে নতুন ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’ টুল চালু করেছে ওপেনএআই। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের চ্যাটজিপিটি...

এআইচালিত হিউম্যানয়েড রোবট চাঁদে পাঠাবে চীন

চাঁদে মানব অভিযান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে চীন। সেই লক্ষ্যেই উন্নত...