ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে সিনেমাটি প্রদর্শনের কথা থাকলেও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত তা বন্ধ রাখতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও বিশিষ্ট নাগরিকরা ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, এটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য চরম উদ্বেগজনক। তিনি এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা দেখে আলোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু প্রদর্শনী বন্ধ করার চাপ দেওয়া অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। তিনি অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমাটি বৃহৎ পরিসরে প্রদর্শনের দাবি জানান।
নির্মাতা খন্দকার সুমন বলেন, চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু প্রদর্শনী বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত চাপের মুখে নেওয়া উচিত নয়। এটি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপন্থী। ঔপন্যাসিক স্বকৃত নোমান এই ঘটনাকে রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এমন প্রবণতা চলতে থাকলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কট্টরপন্থার শাসন কায়েম হতে পারে।
এদিকে পরিচালক তানিম নূর তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেন, অল্প কিছু মানুষের আপত্তির মুখে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ থাকতে পারে না। তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত সিনেমার প্রদর্শনী ঘিরে এমন পরিস্থিতিতে সংস্কৃতিকর্মীরা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।