ডাইনোসর যুগের ঠিক পরপরই পৃথিবীর আদিম মহাসমুদ্র কাঁপিয়ে বেড়াত এক দানবীয় হাঙ্গর যার নাম মেগালোডন। আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই প্রাচীন শিকারিকে স্মরণ করতে এবং সমুদ্রের রহস্যময় ইতিহাসকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি বছর ১৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় জাতীয় মেগালোডন দিবস। প্রাগৈতিহাসিক এই মহাসাগরীয় শিকারির প্রতি মানুষের কৌতুহল আর ফ্যান্টাসির কোনো শেষ নেই। হলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীদের গবেষণার টেবিল সবখানেই এই দানবাকৃতির হাঙ্গরের অবাধ বিচরণ রয়েছে। বিশেষ করে যারা সমুদ্রের গভীরের প্রাচীন ইতিহাস এবং বিলুপ্ত বন্যপ্রাণী নিয়ে মেতে থাকতে ভালোবাসেন তাদের জন্য বছরের এই দিনটি এক দারুণ আনন্দের খোরাক জোগায়।
বিজ্ঞানীদের মতে মেগালোডন শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো বিশাল দাঁত। আর হবেই না কেন কারণ এই হাঙ্গরের একেকটি দাঁতের আকার ছিল একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হাতের তালুর চেয়েও বড়। সাধারণ একটি গ্রেট হোয়াইট শার্কের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড় আকারের এই মেগালোডন লম্বায় প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট ফুট পর্যন্ত হতো এবং এদের কামড়ের জোর ছিল আধুনিক যুগের যেকোনো প্রাণীর চেয়ে শত গুণ বেশি। তাদের বিশাল হাঁ-এর ভেতরে সাজানো থাকত শত শত ধারালো দাঁত যার সাহায্যে তারা নিমেষেই বড় বড় তিমি বা সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শিকার করত। এই অবিশ্বাস্য শারীরিক গঠন আর শিকারের দক্ষতার কারণেই মেগালোডনকে পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ‘অ্যাপেক্স প্রিডেটর’ বা প্রধান শিকারি হিসেবে গণ্য করা হয়।
আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার একটি বিখ্যাত ফসিল মিউজিয়ামের হাত ধরে প্রথম এই বিশেষ দিনটির উদযাপন শুরু হয়েছিল যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডাইনোসর ও সমুদ্রপ্রেমীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৫ জুনের এই দিনটিতে বিভিন্ন দেশের জাদুঘর এবং অ্যাকুয়ারিয়ামগুলোতে মেগালোডনের ফসিল ও দাঁত প্রদর্শনের পাশাপাশি বিশেষ তথ্যচিত্রের আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন আজ থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষ বছর আগে বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন এবং খাদ্যের সংকটের কারণে এই দানবীয় হাঙ্গর পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে মেগালোডন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরই কিন্তু সমুদ্রের অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন নীল তিমির আকার ক্রমান্বয়ে বড় হতে শুরু করেছিল কারণ মহাসমুদ্রে তাদের ভয় দেখানোর মতো আর কেউ বেঁচে ছিল না। আজকের এই বিশেষ দিবসে সমুদ্রের সেই প্রাচীন ও রোমাঞ্চকর দিনগুলোকে ফিরে দেখার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির বিবর্তন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে জানার সুযোগ পাচ্ছে।