Wednesday 17 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘শিক্ষায় বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে’

জবি করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুন ২০২৬ ২০:৩৩

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: শিক্ষাখাতে সরকারের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি জাতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাজেট বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। ভবিষ্যতে এই বরাদ্দ ধাপে ধাপে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ৪ শতাংশ এবং ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ জনবল সংকটে ভুগলেও বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল সংখ্যক তরুণ। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট) খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে মেধা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষায় বিনিয়োগই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আমাদের তরুণদের মেধা বিশ্বের যেকোনো দেশের তরুণদের সমতুল্য। প্রয়োজন শুধু সঠিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন।’

শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কেবল জিপিএ-৫ বা সনদনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্বাসী নয়; বরং সৃজনশীল, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।’ তিনি জানান, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে আধুনিক ও প্রকল্পভিত্তিক নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’ অতীতে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও সরকার সচেতন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে এবং মাদকসহ সবধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকতে হবে।’ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের মেধা ও নেতৃত্ব বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ১০৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ডিন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কলা, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স এবং চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর