ধীরে ধীরে বিশ্বকাপ ঘিরে আনন্দ-উত্তাপ জমাট বাঁধছে। সেই দৃশ্য দেখা গেল আজ সকালে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ফুটবলের মহাতারকা মেসির হ্যাট্টিক বিশ্বকাপের আনন্দ-উৎসবে নতুন আলোচনা ও মাত্রা যোগ করেছে। আর্জেন্টাইন স্পোর্টস পত্রিকা ‘ওলে’ বলছে ১৬ জুন (সেদেশের সময়ে) আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় একটি দিন। কারণ, লিওনেল মেসি এই তারিখটিকে একেবারে নিজের করে নিয়েছেন। ২০০৬ সালের ১৬ জুন বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল মেসির। সে ম্যাচেই তার প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন। সেদিন সার্বিয়াকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার রদ্রিগেজ, ক্যামবিয়াসো, ক্রেসপো, তেভেজের সাথে তরুণ মেসিও গোল করেন। ঠিক ২০ বছর পর, ২০২৬ সালের ১৬ জুন, তিনি আবারও ইতিহাস গড়লেন। ২০ বছর মানে ৭,৩০৫ দিন, ১,০৪৩ সপ্তাহ এবং ২৪০ মাস।
মেসির এ এক অবিশ্বাস্য দীর্ঘ যাত্রা। মেসি প্রমাণ করলেন যে ১৬ জুন তার জীবনের একটি বিশেষ দিন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে আরেকটি অসাধারণ রেকর্ড নিজের নামের পাশে লিখিয়েছেন। শুধু এই নয়, যখন তিনি ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন, তখন তার বর্তমান সন্তানদের কেউই পৃথিবীতে আসেনি। আর ২০২৬ সালে সেই সন্তানরাই ভিআইপি বক্সে বসে বাবার ইতিহাস গড়া দেখল।
আজ সকালে বাংলাদেশ সময়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা এবং আলজেরিয়ার মধ্যেকার লড়াইয়ে পায়ের যথার্থ জাদু দেখিয়েছেন মেসি। একই সাথে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করে ফেলেছেন। হয়ত পরের ম্যাচেই তিনি ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে ফেলবেন। অনেকের মতোই আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অসাধারণ জয় উপভোগ করেছেন দেশের সাবেক তারকা গোলরক্ষক সাইদ হাসান কানন। পুরো ম্যাচে মেসির ফুটবল জাদুতে তিনিও মুগ্ধ। কিন্তু এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা টিম নিয়ে তার অনেক সংশয় রয়েছে।
সাবেক এই তারকা ফুটবলারের মতে, ‘আর্জেন্টিনা জিতেছে। সমর্থকদের আনন্দ দিয়েছে। কিন্ত আর্জেন্টিনার অন্তর্গত দুর্বলতা হল দলটা যে মেসি নির্ভর হয়ে গেছে তা দৃশ্যায়িত হল। আজকেও সেটা প্রমাণ হয়েছে। মেসি ছাড়া কেউ কিন্তু আলজেরিয়ার গালপোস্টে শট নিতে পারেনি। ফরোয়ার্ড লাইনে লৌতারো মার্টিনেজসহ অন্যরা তেমন কিছ করতে পারেননি। তিনি বললেন, ‘গতবার একঝাঁক নতুন খেলোয়াড় এসেছিল। এবার নতুন কেউ নেই। সেই পুরনোরাই। গত বিশ্বকাপে তরুণ আলভারেজ দারুণ খেলেছিলেন। কিন্ত আজকে পরে নামলেও তার ফুটবল ক্যারিশমা তেমন একটা চোখে লাগেনি।’ সাইদ হাসান কাননের মতে, এবারের বিশ্বকাপেও মেসিই ভরসা। ফলে সামনে আর্জেন্টিনার জন্য বড় বিপদও আছে। হয়ত গ্রুপে তেমন বিপদে পড়তে হবে না। কিন্তু বড় বিপদে পড়তে হতে পারে নকআউট পর্বে। আজকের ম্যাচে মেসির তিনটি গোলের মধ্যে তৃতীয়টি বেশি দৃষ্টিনন্দন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গত বিশ্বকাপেও মেসি এরকম গোল করেছিল মেক্সিকোর বিপক্ষে।
এদিকে আজ মধ্যরাতে ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে গ্রুপ ‘এল’র দুটি দল ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া। এটি ইংল্যান্ডের জন্য বিপজ্জনক ম্যাচ। এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ইংল্যান্ড। ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ৪। লড়তে হবে র্যাঙ্কিং এর ১১তম দলের সাথে। কিন্ত এই দলটি গতবার তৃতীয় হয়েছিল। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল। আর গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। এই ম্যাচ নিয়ে সাবেক ফুটবলার সাইদ হাসান কানন বলেন, ইংল্যান্ড বরাবরই বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে আসে। কিন্তু বারবারই মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। এই এক নিয়তি তাদের।
এবারও তারা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এসেছে। কিন্তু আজকের ম্যাচেই তাদের অভিযাত্রা বোঝা যাবে ক্রোয়েশিয়ার সাথে ফরাফলটা কেমন করে। কিন্ত বিশ্বকাপে এই দলটির বিরহের গল্পই দীর্ঘ। তিনি আরও বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের পরীক্ষিত এক দল। বড় বড় অঘটনও তারা ঘটিয়েছে। বিগ ম্যাচে জয়ও পেয়েছে। সেই নিরিখে তাদের একটুও ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। ইংল্যান্ড সব বিবেচনায় এগিয়ে থাকলেও একচেটিয়া আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারবে না। ইংল্যান্ডে ভালো ভালো ফুটবলার আছে। হ্যারি কেন এই দলের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকা খেলোয়াড়। কিন্তু প্রথম ম্যাচটা তারা কেমন করে দেখতে হবে। আজকের এই ম্যাচ হবে ফিফটি ফিফটি।’







