২০০৫ সালে কার্ডিফে মাশরাফি-আশরাফুলদের বীরত্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই ছিল অজিদের বিপক্ষে লাল-সবুজদের একমাত্র জয়। সেই জয়ের ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেই দ্বিতীয় জয় তো তুলেছেই, সঙ্গে সিরিজও জিতে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ইতিহাস গড়া এমন জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন, বলছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান তোলে। জবাবে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় সফরকারী দল। ২-১ ব্যবধানে অজিদের প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হারানোর স্বাদ নিয়ে চট্টগ্রামে টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আগের ম্যাচে মাথায় বল লাগায় পর্যবেক্ষণে ছিলেন মিরাজ। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটি তিনি খেলেননি। তবে তৃতীয় ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন মিরাজ। অজিদের বিপক্ষে জয় নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘২০০৫ সালে তাদের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারাটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রাই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট, আমাদের কন্ডিশন, উইকেট ও খেলোয়াড়দের প্রশংসা করছে।’
নাথান এলিসের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মিরাজ। তারপরও মাঠ ছাড়েননি তিনি। তার ছক্কাতেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এরপর হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় মিরাজের অবস্থা।
দ্বিতীয় ম্যাচে ঝুঁকি নিয়ে খেলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘এখন আমি অনেকটাই ভালো অনুভব করছি। আর যে মুহূর্তটার কথা বলছেন, আঘাত পাওয়ার পর ফিজিও, ডাক্তার সবাই চাচ্ছিল আমি মাঠ থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু ওই মুহূর্তে আমি শুধু একটা বিষয়ই চিন্তা করেছিলাম..আমি যদি তখন মাঠ ছেড়ে চলে যাই, তাহলে ম্যাচের গতিপ্রবাহ ঘুরেও যেতে পারে। তাই দলের কথা চিন্তা করেই আমি খেলা চালিয়ে গেছি। যদিও এতে ঝুঁকি ছিল। ডাক্তার পরে আমাকে বলেছেন, এমনকি হাসপাতালে যে ডাক্তার আমাকে দেখেছেন তিনিও বলেছেন, এটা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল। জীবনের চেয়ে বড় কিছু নয়, খেলাটা চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল না।’







