এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নেপালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন (এমসিসি) এবং স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম (এসপিপি) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিংয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আজ (১৬ জুন) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, চার দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থানরত খানালের সঙ্গে সোমবার রাতে বৈঠক করেন ওয়াং ই। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, সংযোগ অবকাঠামো, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে বলেন, দূরের আত্মীয়ের চেয়ে কাছের প্রতিবেশী ভালো। নেপালের জন্য চীন একটি বিশ্বস্ত প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার।
বৈঠকে উপস্থিত নেপালি কর্মকর্তাদের মতে, চীনা পক্ষ নেপালে পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের, ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এমসিসি ও এসপিপির মতো উদ্যোগ বাইরে থেকে ইতিবাচক মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য চীনের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
এসময় শিসির খানাল চীনের কাছে উত্তর সীমান্ত থেকে মধ্য নেপাল পর্যন্ত চারটি করিডর উন্নয়নের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে ট্রান্স-হিমালয়ান রেলপথ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি তিনি হুমলা জেলার হিলসা অঞ্চলের কাছে পশ্চিম নেপালের জন্য নতুন বিমানপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা করেন।
সীমান্ত বিরোধের প্রসঙ্গে খানাল বলেন, লিপুলেখ ইস্যু নেপাল ও ভারতের মধ্যে আলোচনার বিষয় হলেও ভারত ও চীনের মধ্যকার বারবার হওয়া সমঝোতা এই বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বৈঠকে চীন বিশেষভাবে পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। জবাবে খানাল জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং এতে নেপাল সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। প্রয়োজন হলে অভিযোগপত্র চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।
চীনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে খানাল নেপালের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, নেপাল ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণে অটল এবং তাইওয়ান ও তিব্বতকে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি আশ্বস্ত করেন, নেপালের ভূখণ্ড কখনোই চীনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
ওয়াং ই নেপালের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চীন সবসময় নেপালের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে আসছে। তিনি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় বিদ্যুৎ, মহাসড়ক, বন্দর ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করেন।
নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল বলেন, চীনের উন্নয়ন নেপালের জন্য একটি সুযোগ। তিনি চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে নেপালে আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে চীন আবারও নেপালকে বিআরআই, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)-এ সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তবে নেপালি কর্মকর্তাদের মতে, খানাল এই বিষয়ে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
সফরের অংশ হিসেবে খানাল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার, অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই পক্ষই অতীতে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ফোরামে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।







