ডলারের বাজারে আগুন, ২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে স্বর্ণের দাম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা ও এর জবাবে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই চরম উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দাম হু হু করে বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির বড় আশঙ্কা তৈরি করেছে। আর এই সবকিছুর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে; ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্পট স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে চার হাজার ৩৮০.৬২ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৬ মার্চের পর সবচেয়ে কম।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাম গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী, ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য দেশের মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারের মূল্যে স্বর্ণ কেনা অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায় ও দাম নিচের দিকে নামতে থাকে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্স-এর সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন জানান, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে এবং শান্তিচুক্তির আলোচনাগুলো বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণের দামকে আরও চাপে ফেলবে।
হরমুজ প্রণালি সচল করা নিয়ে ইরান একটি চুক্তির দাবি করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। এর পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালায়। জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই সামরিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। তেলের এই উচ্চমূল্য বিশ্ববাজারে সামগ্রিক জিনিসপত্রের দাম (মুদ্রাস্ফীতি) বাড়িয়ে দেবে।
সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে মানুষ সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণ কিনে রাখে। কিন্তু মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গভর্নর লিসা কুক জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ ও শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতায় শঙ্কা তৈরি হলে তারা প্রয়োজনে সুদের হার আরও বাড়াতে প্রস্তুত। ব্যাংকে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পেছনে টাকা না খাটিয়ে বন্ড বা ব্যাংকে টাকা রাখতে বেশি পছন্দ করেন, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা আসে না। এই সুদের হার বাড়ার আশঙ্কাই স্বর্ণের দামকে আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় পতন হয়েছে ও এগুলো প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট রুপার দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২.৩৭ ডলারে নেমেছে। একই সাথে প্ল্যাটিনামের দাম ১.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৯০.৮১ ডলারে ও প্যালাডিয়ামের দাম ১.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এক হাজার ৩৬৪.২৬ ডলারে নেমে এসেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক