বিপদ বাড়ছে মমতা ব্যানার্জির
ভারতের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সমস্যা দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে। যে বিদ্রোহী শিবিরটি তার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তারা এখন আগের চেয়েও বেশি সংসদ সদস্যের (এমপি) সমর্থন পাওয়ার দাবি করছে। বিদ্রোহীদের প্রতি এই সমর্থন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বড় একটি ধাক্কা। খবর এনডিটিভির।
এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত পাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিদ্রোহীদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জানান, তাদের শক্তি এখন ২০ থেকে বেড়ে ২২-এ দাঁড়িয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যারা ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও এক-দুজন আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। আগে আমি ২০ জনের কথা বলেছিলাম; এখন তা ২২ জন। এখানে সবার মতামত শোনা হবে। আলোচনা হবে, কোনো একনায়কতন্ত্র চলবে না।’
তবে, তাদের সমর্থন দেওয়া নতুন দুই এমপির নাম এখনই প্রকাশ করেননি কাকলি ঘোষ। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, তৃণমূল থেকে আলাদা একটি গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠানোর এক সপ্তাহ পর, স্পিকার এই বিদ্রোহীদের সঙ্গে আগামীকাল বৈঠকে বসবেন।
স্পিকারের সঙ্গে এই বৈঠকের আগেই আজ দিল্লির বিজেপি এমপি ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে পৌঁছান চার বিদ্রোহী এমপি—শতাব্দী রায়, মালা রায়, প্রসূন ব্যানার্জি এবং সায়নী ঘোষ। সেখানে বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন।
গতকালই শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন তৃণমূলের ছয়বারের এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেননি, তবে এই বৈঠক থেকে এটি বেশ স্পষ্ট যে, তিনি বিদ্রোহীদের সমর্থন করতে যাচ্ছেন।
দলের অন্যতম অভিজ্ঞ এই সংসদ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বিদ্রোহী শিবিরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সূত্রের খবর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিদ্রোহী এমপিদের একাংশ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। বেশ কয়েকজন এমপি তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করছিলেন এবং অনেকেরই ধারণা, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনে তিনিই এই বিদ্রোহী শিবিরের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠতে পারেন।
গত মাসের নির্বাচনি পরাজয়ের পর দল বাঁচাতে হিমশিম খাওয়া মমতা ব্যানার্জির জন্য এই ঘটনাগুলো সংকট আরও বাড়িয়ে দিল। পশ্চিমবঙ্গে তার ৮০ জন বিধায়কের (এমএলএ) মধ্যে অন্তত ৬০ জন ইতোমধ্যেই এমন এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এর আগে আগে, দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া দল থেকে পদত্যাগ করেন। ৭৪ বছর বয়সী এই নেতা এনডিটিভি-কে জানান, দলের চলমান সংকটে তিনি ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট, তবে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা তিনি প্রকাশ করেননি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক