Published : 17 Jun 2026, 07:41 PM
মুন্সীগঞ্জে সাত বছর আগে পুলিশের গুলিতে ‘পঙ্গু’ শাহাদাত হোসেন শ্যামলকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
বুধবার এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ নির্দেশনাসহ এ রুল জারি করে।
রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে শ্যামলকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী শাহিনুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত ভুক্তভোগী শ্যামলকে চিকিৎসার খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ ও আইজিপিকে এই ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
২০১৯ সালের ১৪ মার্চ রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানাধীন কামরাকান্দা পুলিশ চেকপোস্টে ওই গুলির এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণে আইনজীবী শাহিনুজ্জামান বলেন, “ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কয়েকজন বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় এক পুলিশ সদস্য শ্যামলের পায়ে সরাসরি গুলি করেন। ঘটনার পর পুলিশ উল্টো ভুক্তভোগী শ্যামলসহ তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশের সংকেত অমান্য করা এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগে সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা করে।
“গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শ্যামলের কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে।
“পরে মানবাধিকার কমিশনের চিঠির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেয়। তদন্তে গুলি করার সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করে নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও, শ্যামল ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়নি।”
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আদেশের বরাতে শাহিনুজ্জামান বলেন, “পুলিশের তদন্তে চেকপোস্টে দায়িত্বরত কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের অসতর্কতা ও অদক্ষতার কারণে শটগান থেকে এক রাউন্ড রাবার কার্তুজ ফায়ার হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছিল।
“একজন মানুষের পায়ে সরাসরি গুলি করার মত গুরুতর অপরাধের বিপরীতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে অত্যন্ত সাধারণ ও নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তি হিসেবে তাকে পাঁচদিন দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা করে (মোট ২৫ ঘণ্টা) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে যাওয়ার অজুহাতে জরিমানা করা হয় মাত্র ৩৫০ টাকা। একজন মানুষকে গুলি করার বিপরীতে এই ধরনের সাজা দেওয়ার বিষয়টি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
এ আইনজীবী দাবি করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর আগে স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দিয়ে শ্যামলের চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকা জরুরি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই টাকা না দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জন্য উল্টো মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি দেয় যাতে এই ২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না হয়।
তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ক্ষতিপূরণের সুপারিশ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলেও কমিশন তা নাকচ করে দেয়। পরে কমিশনের আদেশে বলা হয়, পুলিশের অসতর্কতায় গুলি খেয়ে একজন মানুষের চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করার বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এর দায়ভার কোনোভাবেই রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। তাই ভুক্তভোগীকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।”